শনিবার, ২৪শে শ্রাবণ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ
৮ই আগস্ট, ২০২০ ইং
১৭ই জিলহজ্জ, ১৪৪১ হিজরী
ads

বিসিএস ক্যাডার হলেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া, নবীনগরের কৃতি সন্তান মঞ্জুরুল

মাটির টানে বিদেশে না গিয়ে দেশে থাকার সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রথম বারেই বিসিএস ক্যাডার হলেন ব্রাহ্মণবাড়িয়ার মঞ্জুরুল আরেফিন সবুজ

‘পরিবারের প্রায় সকলেই সরকারি চাকুরি করাতে, বিসিএস বা অন্য কোন সরকারি চাকুরি করার কোন ইচ্ছেই ছিল না। ইচ্ছে ছিল অনার্স পাস করেই বিদেশে চলে যাব, সেখানেই স্থায়ী হয়ে যাব। পরে মনে হল, যে মাটিতে জন্ম গ্রহণ করেছি, সে মাটির মানুষের পাশে থেকে, তাদের জন্য কাজ না করে বিদেশে গিয়ে আয়েশি জীবন যাপন করলে সেটি এই মাটির সাথে বেঈমানি করা হবে। এই ভেবেই থেকে গিয়েছিলাম দেশে।

পরিবারের সবার আগ্রহে অংশগ্রহণ করেছিলাম বিসিএস পরীক্ষায়।‘
কথাগুলো বলছিলেন সদ্য ঘোষিত ৩৮ তম বিসিএসে কৃষি ক্যাডারে সুপারিশপ্রাপ্ত মঞ্জুরুল আরেফিন সবুজ। ব্রাহ্মণবাড়িয়ার, নবীনগর থানার লহরী গ্রামে জন্ম হলেও বেড়ে উঠেছেন শহরে। কিন্তু গ্রামের প্রতি রয়েছে অনেক টান। সময় পেলেই ছুটে আসেন গ্রামে।

নয় ভাইবোনের মাঝে সবার ছোট তিনি। তাই বড় হয়েছেন সবার অনেক আদরে আদরে। সিলেট ক্যাডেট কলেজ উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ২০০৮ সালে বিজ্ঞান বিভাগ থেকে জিপিএ ৫ পেয়ে এসএসসি ও স্ট্যামফোর্ড কলেজ থেকে ২০১০ সালে বিজ্ঞান বিভাগ থেকে জিপিএ ৫ পেয়ে এইচএসসি পাশ করেন। এরপরে ভর্তি হন শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে। সেখান থেকেই অনার্স এবং এমএস ডিগ্রী অর্জন করেছেন সফলতার সাথে।

বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয়ে শুধু একাডেমিক পড়াশুনা নিয়েই ব্যস্ত থাকেন নি। লেখালেখি এবং ফটোগ্রাফি করে পুরস্কার পেয়েছেন। পাঁচটি- সাতটি শর্ট ফিল্ম এবং বিজ্ঞাপনে অভিনয় করেছেন প্রধান চরিত্রে। প্রচুর ঘুরাঘুরি করতেও পছন্দ করেন। দেশের প্রায় সব জেলাতেই ঘুরতে গিয়েছেন। অনেক কিছু নিয়ে ব্যস্ত থাকায় বুঝে উঠতে পারছিলেন না কোনটিকে পেশা হিসেবে বেছে নিবেন। সব সময় চেয়েছেন এমন কিছু একটা করতে যা তাঁর আগে পরিবারের অন্য কেউ করেন নি। অনার্সের পরে বন্ধুরা যখন সবাই বিসিএসের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছিল, তিনি তখন জাপানিজ শিখতেন এবং আইইএলটিসের প্রস্তুতি নেন। পরবর্তীতে পবিবারের সবার আগ্রহেই বিসিএস দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন।

৩৭ তম বিসিএস প্রিলির ঠিক এক মাস আগে থেকে প্রস্তুতি নিয়ে প্রথম বারেই কোন প্রকার কোটা ছাড়া ৩৮ তম বিসিএসে কৃষি ক্যাডারে সুপারিশপ্রাপ্ত হয়েছেন। সাফল্যের পিছনে পুরো অবদান পরিবারের। শুধু মাত্র পরিবারের আগ্রহের জন্যই শুরু করেছিলেন বিসিএসের প্রস্তুতি। ছোটবেলায় বৃত্তি পেয়েছিলেন এবং তখন থেকেই ভালো রেজাল্ট করার কারণে বেসিক খুব ভালো ছিল। তাই বিসিএসের পড়াতে অনেক আনন্দ খুঁজে পান। নিজের উপর অনেক বিশ্বাস থাকায় শুধুমাত্র বিসিএস পরীক্ষাতেই অংশগ্রহণ করতেন। ব্যাংক অথবা অন্য পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতেন না। ক্যাডার হওয়ার জন্য দৃঢ় প্রতিজ্ঞাবব্ধ ছিলেন। ফেসবুক, মোবাইল, বন্ধু-বান্ধব, আত্মীয়-স্বজন সবাইকে ছেড়ে সবার আড়ালে চলে গিয়েছিলেন তিন বছরের জন্য। পেয়েছেন সাফল্য। তখন সবাই একটু মন খারাপ করলেই এখন সবাই সেসব ভুলে গেছেন।

ছোটবেলায় বাবাকে হারানো এই তরুণ আজীবনের পরিবারের কথা অনুযায়ী চলেছেন। জীবনে যখন যে কাজটা করেছেন সেটিতেই পুরোপুরি গুরুত্ব দিয়েছেন। সব ভাই বোন থেকে তাদের ভালো গুণগুলো নিজের মধ্যে আনার চেষ্টা করেছেন সবসময়। তিনি তার পরিবারের সকলের প্রতি খুব কৃতজ্ঞ। সকলের সহযোগিতার কারণেই তিনি আজ এই পর্যায়ে আসতে পেরেছেন। তিনি ৪০ তম বিসিএসেরও লিখিত পরীক্ষা দিয়েছেন। তাই সকলের কাছে দোয়া প্রার্থী।

তিনি বলেন “আমার কাছে পড়াশুনাটা হল ব্যবসার মত, আপনি যদি সঠিক ওয়েতে যত বেশি ইনভেস্ট করবেন, তত বেশি মুনাফা পাবেন।“ বিসিএস নিয়ে তিনি বলেন “ যারা বিসিএস দিতে চান, সবাইকে একটাই অনুরোধ করব শুধু ফোকাস থাকবেন প্রস্তুতি নেয়ার পুরো সময়টাতে! অনেক লম্বা জার্নি। কোন ভাবেই হতাশ হয়ে হাল ছেড়ে দেওয়া যাবে না। আশেপাশের মানুষজনকে যখন ভালো চাকুরি পেতে দেখবেন তখন অনেক হতাশা কাজ করলেও হতাশাটাকে শক্তিতে পরিণত করে নিজের স্বপ্নের জন্য লেগে থাকতে হবে। আর বাকিটা আপনার ভাগ্য এবং আশেপাশের মানুষের দোয়া!!”

শেয়ার করুন:

Share on facebook
Share on twitter
Share on linkedin
Share on pinterest
Share on whatsapp
Share on email
Share on print

আরও পড়ুন:

বিশ্বজুড়ে করোনাভাইরাস

বাংলাদেশে

আক্রান্ত
১৭৮,৪৪৩
সুস্থ
৮৬,৪০৬
মৃত্যু
২,২৭৫

বিশ্বে

আক্রান্ত
১৯,৫৪৩,৫৬২
সুস্থ
১২,৫৪৫,৫৬৭
মৃত্যু
৭২৪,০৭৫

আর্কাইভ

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০১১১২
১৩১৪১৫১৬১৭১৮১৯
২০২১২২২৩২৪২৫২৬
২৭২৮২৯৩০৩১