শনিবার, ২৪শে শ্রাবণ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ
৮ই আগস্ট, ২০২০ ইং
১৭ই জিলহজ্জ, ১৪৪১ হিজরী
ads

করোনা পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলেও বেসামাল হবে অর্থনীতি- সুমি আক্তার

করোনা পরিস্থিতি শিথিল হওয়ার পর অর্থনীতির এক অস্থির অবস্থা উন্মোচিত হবে আমাদের দেশে। তাই দেশের অর্থনৈতিক সাফল্য দ্বারা ও বেকারত্ব ঘুচাতে শিল্পায়নের উপর অধিকতর নজর দেয়া কে গুরুত্ব দিতে হবে। এরই মধ্যে যে দেশগুলো উন্নয়নের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে একটু নজর বুলালে দেখা যায়, তারা ইতিমধ্যে অনেকটাই সফল অর্থনীতির প্রবৃদ্ধি ধরে রাখার পাশাপাশি বেকারত্ব সমস্যা সমাধানে নিয়েছেন কার্যকরী পদক্ষেপ। যেমন প্রথমেই চীনের কথা না বললেই নয়। পর্যায়ক্রমে সুইজারল্যান্ড, ইন্দোনেশিয়া, ভিয়েতনাম এগিয়ে যাচ্ছে দূর্বার গতিতে।
দেশে শক্তিশালী অর্থনৈতিক অবকাঠামোর ভিত গড়তে হলে  পুঁথিগত বিদ্যার পাশাপাশি প্র্যাকটিক্যাল কাজের দক্ষতা সম্পন্ন হাত তৈরি করা অধিক প্রয়োজন। স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় গুলোতে শিক্ষার্থীদের জীবনের যে সময়গুলো ব্যয় হয় সেই সময়টাতে তাদেরকে কারিগরি শিক্ষা প্রদান করে দক্ষ হিসেবে গড়ে তুলতে হবে।
চাকরি করার প্রবণতাকে ছুড়ে ফেলে নিজের উদ্যোগে প্রযুক্তিগত দক্ষতা নিয়ে শিল্প-কারখানা গড়ে তুলতে হবে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর সাথে ভোকেশনাল এডুকেশন এন্ড ট্রেনিং সিস্টেম যোগ স্থাপন করতে হবে।
বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে অর্থনৈতিক সাফল্যের জন্য এটা একটা বড় পদক্ষেপ হতে পারে, কেননা আমাদের রয়েছে বিশাল জনগোষ্ঠী। এই জনসংখ্যা কে কাজে লাগিয়ে এবং ছোট ছোট শিল্পপ্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার মাধ্যমে বেকারত্ব, দারিদ্র্য সংকট দূর করা সম্ভব। বর্তমানে লক্ষ লক্ষ যুবসমাজের বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্টিফিকেট থাকলেও বেকারত্বের গ্লানি নিয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছে। কি লাভ তাতে! তাই বিশ্বের অন্যান্য দেশকে মডেল হিসেবে অনুসরণ করে ভোকেশনাল এডুকেশন ট্রেনিংকে অধিক গুরুত্ব দেয়া বাঞ্ছনীয়। সুইজারল্যান্ড এর জ্বলন্ত উদাহরণ। তারা তুলনামূলকভাবে কম বিশ্ববিদ্যালয় স্নাতক উৎপাদন করে। দেশটি ভোকেশনাল এডুকেশন এন্ড ট্রেনিং সিস্টেম চালু করেছে যা অত্যন্ত শক্তিশালী। বলাবাহুল্য ক্রমবর্ধমান প্রতিযোগিতা অটমেশন ও বিশ্বায়নের দ্বারা চিহ্নিত যুগে এটাই সুইজারল্যান্ডের সাফল্যের রহস্য।
অন্যদিকে চীনও শিল্পায়নের গুরুত্ব দিয়ে সাহসী পরিকল্পনা গড়ে তুলেছে। সারা বিশ্বকে তাক লাগিয়েছে তারা। প্রয়োজন বোধ করেছে আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারের মধ্য দিয়ে দক্ষতার স্তর গুলোকে ব্যাপকভাবে বাড়াতে। তাই বৃত্তিমূলক শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ (ভেট সিস্টেম )কে অবলম্বন করেছে। তাই তারা সারা বিশ্বকে জয় করতে চলেছে।
এদিকে ইন্দোনেশিয়ায় ও পিছিয়ে নেই উন্নয়নের ছোঁয়া থেকে । এরা শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও শিল্পের মধ্যে সহযোগী অংশীদারিত্ব গড়ে তুলেছে। বেশিরভাগ বৃত্তিমূলক উচ্চবিদ্যালয় ছাত্রদের শিল্পভিত্তিক দক্ষতা উন্নত করে এবং তাদের কাজের অভিজ্ঞতা বাড়াতে পাঠক্রমের অংশ হিসেবে ইন্ডাস্ট্রিয়াল কাজের অনুশীলন গুলো রেখে দিয়েছে। যেখানে অনলাইন তথ্য সিস্টেমও যুক্ত হয়েছে। আমরা কি তা অনুসরণ করতে পারি না? এ ক্ষেত্রে বিভিন্ন সংস্থার জন্ম হবে।
এদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পাবে নিম্ন বর্ণিত পদ্ধতিগুলোঃ
# কলেজগুলোর সাথে অংশীদারিত্ব সৃষ্টি করে শিক্ষার্থীদের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করতে হবে।
# উপযুক্ত স্থান, অগ্রণী প্রযুক্তিবিদ এবং পরিচালকদের প্রশিক্ষক হিসেবে প্রেরণ করবে। ব্যবহারিক দক্ষতা প্রদানে ইন্টার্নশিপ ব্যবস্থা চালু রাখবে।
# শিক্ষার্থীরা যখন শিখবে তাদের ছোট্ট স্কেলে বেতন নির্ধারন করতে হবে।
# পড়াশোনায় মুখস্থ করার পদ্ধতির চেয়ে বাস্তবিক অভিজ্ঞতার ওপর অধিক গুরুত্ব দিতে হবে। যেখানে একাডেমিক ধারণাগুলো বাস্তবে রূপান্তর হবে।
# তরুণদের হাতগুলোকে আরো দক্ষতায় পূর্ণ করে তাদেরকে দক্ষ হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। পাশাপাশি পর্যাপ্ত সমর্থনও দিতে হবে।‌
# গবেষণা ভিত্তিক শিক্ষা ব্যবস্থা চালু করে নজরদারি বাড়ানোর দিকে মনোযোগী হতে হবে।
বর্তমান সরকারের দক্ষ নেতৃত্বে দেশ এগিয়ে যাচ্ছে দুর্বার গতিতে। একদিন আমাদের দেশও উন্নত দেশগুলোর সাথে পাল্লা দিয়ে বিশ্বের বুকে মাথা তুলে দাঁড়াবে। বাংলার আর কারো সন্তান প্রবাসী হয়ে পরের দেশে জীবন যৌবন শেষ করবে না।
বাংলার শক্তি তরুণ-তরুণীরা, তারা তাদের দক্ষতার পরিচয় দিয়ে দেশকে উর্বর করে তুলবে সেই প্রত্যাশা করতেই পারি। দেশের সংশ্লিষ্ট প্রশাসন বিষয়টিকে অধিকতর গুরুত্ব দিলে আমাদের দেশের অর্থনীতির চাকা  আরও গতিশীল হবে।

শেয়ার করুন:

Share on facebook
Share on twitter
Share on linkedin
Share on pinterest
Share on whatsapp
Share on email
Share on print

আরও পড়ুন:

বিশ্বজুড়ে করোনাভাইরাস

বাংলাদেশে

আক্রান্ত
১৭৮,৪৪৩
সুস্থ
৮৬,৪০৬
মৃত্যু
২,২৭৫

বিশ্বে

আক্রান্ত
১৯,৫৪৩,৫৬২
সুস্থ
১২,৫৪৫,৫৬৭
মৃত্যু
৭২৪,০৭৫

আর্কাইভ

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০১১১২
১৩১৪১৫১৬১৭১৮১৯
২০২১২২২৩২৪২৫২৬
২৭২৮২৯৩০৩১