শুক্রবার, ১২ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ
২৭শে নভেম্বর, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ
১১ই রবিউস সানি, ১৪৪২ হিজরি
ads

শেখ হাসিনার করোনা লড়াইয়ের প্রত্যয়

যোবায়ের খান: আমেরিকার জনপ্রিয় ম্যাগাজিন ‘ফোর্বসে’ ২২ এপ্রিল (২০২০) প্রকাশিত কানাডিয়ান লেখক অভিভাহ ভিটেনবারগ-কক্স রচিত ‘8 (More) Women Leaders Facing The Coronavirus Crisis’ শীর্ষক প্রবন্ধে করোনাভাইরাসের মহামারি মোকাবেলায় সরকারপ্রধান শেখ হাসিনার প্রশংসা করা হয়েছে।

নারী নেতৃত্বাধীন সিঙ্গাপুর, হংকং, জর্জিয়া, নামিবিয়া, নেপাল, বলিভিয়া, ইথিওপিয়া এবং বাংলাদেশের রাষ্ট্রনায়কদের ওপর আলোকপাত করার সময় বলা হয়, শেখ হাসিনা নেতৃত্বাধীন ১৬ কোটি ১০ লাখের মতো মানুষের দেশ বাংলাদেশের মহামারির সংকট মোকাবেলায় দ্রুত সাড়া দিয়েছেন, যাকে ‘প্রশংসনীয়’ বলেছে ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরাম।

Nagad Banner
কলামে বলা হয়েছে, এদেশের পরিস্থিতি মোকাবেলার জন্য তিনি গত ফেব্রুয়ারি থেকে যেসব পদক্ষেপ গ্রহণ করেছেন সেগুলো এক অর্থে যুক্তরাজ্যও করতে পারেনি। তবে একথা সত্য, বিশ্ব মিডিয়ায় প্রশংসা পাবার জন্য শেখ হাসিনা কাজ করেন না। তাঁর দিনপঞ্জি জুড়ে আছে করোনা মোকাবেলার জন্য ব্যস্ত সময়ের কর্মকাণ্ড।

৪ মে (২০২০) গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে রংপুর বিভাগের আটটি জেলার কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশের অর্থনৈতিক অবস্থা নিয়ে বেশ কিছু কথা বলেছেন। তিনি বলেছেন, ‘আমরা সোনার বাংলা গড়ার লক্ষ্য নিয়ে দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছিলাম।

কিন্তু করোনাভাইরাসের কারণে অর্থনীতি থমকে দাঁড়িয়েছে। আমি জানি এটার প্রভাব পড়বে আগামীতেও। আন্তর্জাতিক সংস্থা এই পরিস্থিতিকে মহামারি ঘোষণা দিয়েছে।’ জাতি যখন অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির সুফল পেতে শুরু করেছিল তখনই হঠাৎ করে আঘাত এসেছে। এটা শুধু বাংলাদেশে নয় সারাবিশ্বে যেহেতু এর প্রভাব, স্বাভাবিকভাবেই এই অবস্থা মোকাবেলা করার জন্য বিভিন্ন পদক্ষেপ নেয়া হচ্ছে।

করোনা চলা অবস্থায় দেশের অর্থনীতির চাকা যেন গতিশীল ও সুরক্ষিত থাকে মানুষকে একেবারে ঘরে বন্দি না করে সীমিত আকারে জরুরি কিছু কিছু কাজ চলানোর উদ্যোগের কথাও তিনি জানান। ক্ষুদ্র শিল্প, হাট-বাজার চালু করা হচ্ছে। ধীরে ধীরে কিছু জিনিস উন্মুক্ত করে দেওয়া হবে।

অর্থাৎ মানুষকে সুরক্ষিত রেখে, মানুষের স্বাস্থ্যের দিকে নজর দিয়ে শিল্প-কারখানা পরিচালিত হতে পারে। ব্যবসার জন্য যারা ঋণ নিয়েছেন তাদের দুইমাসের সুদ স্থগিত করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী জানান, ১০ টাকায় চাল কেনার জন্য আরও ৫০ লাখ রেশন কার্ড সুবিধা দেওয়া হবে। যাদের আয়-উপার্জনের পথ নেই তারা ঈদের আগে নগদ অর্থ সহায়তা পাবে।

তিনি আবারও কৃষির ওপর জোর দেন। তিনি বলেন, ‘এবার ২১ লাখ মেট্রিক টন খাদ্যশস্য সংগ্রহ করা হবে। আশা করি আগামী কয়েক মাসের মধ্যে খাবারের সমস্যা হবে না।’ কৃষির মতো তিনি পোল্ট্রি এবং দুগ্ধ শিল্প রক্ষারও পরামর্শ দিয়েছেন।

এর আগে ২৭ এপ্রিল একইভাবে তিনি গণভবন থেকে রাজশাহী বিভাগের জেলাগুলোর প্রতিনিধিদের সঙ্গে করোনা পরিস্থিতি ও ত্রাণ বিতরণ নিয়ে ভিডিও কনফারেন্সে মতবিনিময় করার সময় সকলস্তরের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান মহামারির প্রাদুর্ভাব দূর হওয়ার পর খুলবে বলে অভিমত ব্যক্ত করেন।

উল্লেখ্য তিনি করোনাভাইরাস পরিস্থিতি নিয়ে চার দফা পৃথক ভিডিও কনফারেন্সে ঢাকা, চট্টগ্রাম, খুলনা, সিলেট, বরিশাল এবং ময়মনসিংহ বিভাগের ৪৮টি জেলার সঙ্গে মতবিনিময় করেছেন। ২৩ এপ্রিল তিনি পাঁচ দফা প্রস্তাব উত্থাপন করে বিশ্বের সকল নেতা, সংস্থা ও ফোরামের ঐক্যের মাধ্যমে একসঙ্গে করোনা যুদ্ধে জয়ী হওয়ার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছেন।

দক্ষিণ এশিয়ার অর্থনীতিতে কোভিড-১৯-এর প্রাদুর্ভাব মোকাবেলায় আঞ্চলিক সহযোগিতা জোরদার বিষয়ক ওই তারিখের ভার্চুয়াল সম্মেলনে তিনি আরো বলেন, বিশ্ব সম্ভবত গত ১০০ বছরের মধ্যে সবচেয়ে বড় সংকটের মুখোমুখি।

সুতরাং সবাই একসঙ্গে সংকটের মোকাবেলা করা দরকার। সমাজের প্রতিটি পর্যায় থেকে সমন্বিত দায়িত্বশীলতা এবং অংশীদারিত্বমূলক মনোভাব প্রয়োজন। তাঁর উত্থাপিত ৫ দফা প্রস্তাব হলো-

(ক) বিশ্বকে মানবকল্যাণ, বৈষম্যদূরীকরণ, দরিদ্র জনগোষ্ঠীকে সহায়তা এবং মহামারির পূর্বের অর্থনৈতিক অবস্থায় ফিরিয়ে নিতে নতুন ভাবনা জরুরি।

(খ) প্রয়োজনে জি-৭, জি-২০ এবং ওইসিডির মতো সংগঠনগুলো থেকে দৃঢ় ও পরিকল্পিত বৈশ্বিক নেতৃত্ব। জাতিসংঘ নেতৃত্বাধীন বহুপাক্ষিক ব্যবস্থাকেও এগিয়ে আসা উচিত। গ) কোভিড পরবর্তী সময়ে নতুন নীতি, স্ট্যান্ডার্ড ও পদ্ধতির প্রবর্তন হলেও বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ডকে যথাযথ দায়িত্বশীলতার পরিচয় দিতে হবে যেন বাংলাদেশের মতো দেশগুলো টিকে থাকতে পারে।

(ঘ) অভিবাসী কর্মীদের বেকারত্ব মোচনের জন্য একটি অর্থপূর্ণ বৈশ্বিক কৌশল ও পরিকল্পনা গ্রহণ করতে হবে। (

ঙ) এই মহামারিতে কার্যকরীভাবে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এবং মোবাইল ফোনের মাধ্যমে সংক্রমণ চিহ্নিত করা গেছে। ভবিষ্যতের প্রস্তুতির জন্য বিভিন্ন সেক্টরে ডিজিটাল প্রযুক্তি ও যন্ত্রপাতি ব্যবহারের মাধ্যমে এই রকম উদ্ভাবনীমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা দরকার।’ করোনা মোকাবেলায় প্রধানমন্ত্রী এর আগে ৩১ দফা প্রস্তাব দিয়েছেন।

ত্রাণ বিতরণের জন্য নিজের দলের নেতাকর্মীদের ৩ দফা নির্দেশ দিয়েছেন। তবে কেবল দফায় দফায় প্রস্তাব কিংবা নির্দেশে তিনি থেমে থাকেননি। বরং তাঁর দিনপঞ্জিতে করোনা লড়াইয়ের কর্মসূচি বিশ্বের কাছে দৃষ্টান্তে পরিণত হয়েছে।

মহামারি বিপর্যয় রোধে বৈশ্বিক সমন্বয় চেয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। ২৫ এপ্রিল বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডাব্লিউএইচও) মহাপরিচালক ডা. টেড্রোস আধানম গ্রেব্রিয়েসিসকে লেখা এক চিঠিতে তিনি করোনাভাইরাস মহামারির মতো ভবিষ্যতে যেকোনো বিশ্ববিপর্যয় কার্যকরভাবে মোকাবেলায় ‘আরো বেশি নীতি ও আর্থিক গুরুত্ব প্রদানের’ জন্য ‘বৈশ্বিক সমন্বয়ের’ আহ্বান জানিয়েছেন।

তিনি লিখেছেন, ‘আমি ভবিষ্যতে যেকোনো বিশ্ববিপর্যয় কার্যকরভাবে মোকাবেলার সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং সবার জন্য স্বাস্থ্য সুরক্ষা অর্জনের মতো স্বাস্থ্য বিষয়গুলোতে আরো নীতি ও আর্থিক গুরুত্ব প্রদানে বিশ্বব্যাপী সমন্বয়ের আহ্বান হিসেবে সবাইকে এই সংকটটিকে সতর্কতা হিসেবে বিবেচনার আহ্বান জানাচ্ছি।

২৯ এপ্রিল ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে ফোনালাপে করোনা পরিস্থিতি মোকাবেলায় বাংলাদেশ-ভারত একসঙ্গে কাজ করার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেছেন দু’দেশের প্রধানমন্ত্রী। পরিস্থিতি মোকাবেলায় দুই দেশই খাদ্য উৎপাদনের ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন।

এর আগে ১৫ মার্চ সন্ধ্যায় ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে করোনা ভাইরাস মোকাবেলায় সার্কভুক্ত দেশগুলোকে এক হওয়ার প্রস্তাব দেন নরেন্দ্র মোদি। তার এই প্রস্তাবে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ সার্কভুক্ত অধিকাংশ রাষ্ট্র ও সরকার প্রধান সমর্থন জানান।

বিশ্বের অন্যান্য রাষ্ট্রনায়ক যেখানে তাদের সরকারি লোকের ওপর নির্ভর করে করোনা-ভাইরাসের মহামারি প্রতিরোধে ব্যবস্থা নিচ্ছেন সেখানে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নিজেই সার্বক্ষণিক ব্যস্ত সময় পাড় করছেন প্রতিকূল পরিস্থিতি মোকাবেলায়।

আমেরিকাতে করোনাভাইরাস বেশি ছড়ানো এবং মৃত্যু প্রায় ১ লাখ হওয়ার কারণ হিসেবে সেখানকার ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনকে মোট কথা নেতৃত্বের ব্যর্থতাকে দুষছেন বিশিষ্টজনরা। সেখানে ২১ জানুয়ারি প্রথম করোনা রোগী শনাক্ত হয়। কিন্তু তারা ছয় সপ্তাহ পরে কোয়ারেন্টাইন, আইসোলেশন ও সামাজিক দূরত্বমূলক ব্যবস্থা শুরু করে।

বর্তমান পরিস্থিতিতে আমরা মিডিয়ার বদৌলতে নিউইয়র্ক সিটির গভর্নরের প্রেস কনফারেন্স দেখছি কিংবা ইউরোপের অন্য কোনো নেতার বক্তব্য শুনছি অথচ গত ৮ মার্চে বাংলাদেশে প্রথম করোনা রোগী শনাক্তের পর শেখ হাসিনা নিজেই এদেশের করোনা আক্রান্তের খবর, দ্রুত বদলে যাওয়া দেশের মানুষের আচরণ সম্পর্কে খোঁজ রাখছেন সবচেয়ে বেশি।

এখন তাঁর দায়িত্ব পালনের কেন্দ্রবিন্দু হয়েছে গণভবন এবং ভিডিও কল থেকে শুরু করে মোবাইল, টেলিফোন, হোয়াটসঅ্যাপ ব্যবহার করে করোনা প্রতিরোধে দিক-নির্দেশনা দিয়ে যাচ্ছেন নিয়মিত। জরুরি প্রয়োজনে মন্ত্রী, সচিব কিংবা দলীয় নেতাদের সঙ্গে স্বাস্থ্যবিধি মেনেই নিজের বাসভবনে মিটিং করছেন।

উদ্ভূত নতুন নতুন অবস্থাভেদে তৃণমূল নেতাদেরও ভিডিও কলে নির্দেশ দিচ্ছেন তিনি। শেখ হাসিনার যথাযথ নির্দেশনার কারণেই এদেশে দ্রুত সময়ে আক্রান্তদের চিহ্নিত করা সম্ভব হচ্ছে, চিকিৎসার সুযোগও ক্রমাগত বাড়ছে।

বিশ্বজুড়ে যেখানে প্রায় ৪০ লাখ আক্রান্ত, মৃত ৩ লাখের বেশি মানুষ সেখানে কেবল শেখ হাসিনার নেতৃত্বের গুণে এদেশের পরিস্থিতি খারাপের দিকে যাচ্ছে না। ৬০ এর অধিক জেলায় করোনা ভাইরাস ছড়িয়ে পড়ায় সরকারি ও বেসরকারি চাকরিজীবীদের সাধারণ ছুটি আগামী ১৬ মে পর্যন্ত কার্যকর থাকবে বলে ঘোষণা করা হয়েছে।

তবে যেকোনো পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের জন্য সবকিছুকেই তাঁর পর্যবেক্ষণের আওতায় এনেছেন প্রধানমন্ত্রী। সেখানে সরকারি প্রশাসনের সঙ্গে সেনাবাহিনী ও পুলিশ সদস্যবৃন্দ এবং চিকিৎসকগণ মুখ্য ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছেন।

রোগী শনাক্তের ২ সপ্তাহ পরই হার্ডলাইনে চলে যায় শেখ হাসিনা সরকার। গত ২ মাসে দেশের জেলা প্রশাসক, চিকিৎসক, পুলিশ, সেনাবাহিনীর প্রতিনিধি, জনপ্রতিনিধি ও জেলা আওয়ামী লীগের নেতাদের সঙ্গে ভিডিও কনফারেন্সে ব্রিফিং ও নির্দেশনামূলক বক্তব্য দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।

সংকট মোকাবিলার জন্য প্রশাসনের কর্মকর্তাদের কাছ থেকে মতামতও নিয়েছেন। খেটে খাওয়া সাধারণ মানুষের জন্য করণীয় ঠিক করে দিয়েছেন। আগেই বলেছি, করোনাভাইরাস প্রতিরোধে প্রধানমন্ত্রী ইতোমধ্যে জাতিকে ৩১ দফা নির্দেশনা দিয়েছেন। ২৫ মার্চ থেকে সেনাবাহিনী মাঠ পর্যায়ে কাজ শুরু করেছে। দেশের মধ্যে করেনা আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ায় মানুষের মাঝে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

এ অবস্থায় দেশের সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে জাতির উদ্দেশে একইদিনে তিনি ভাষণ দেন। এ সময় দেশের পোশাক খাতসহ রফতানি শিল্পের জন্য ৫ হাজার কোটি টাকার বিশেষ প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করেন। মহামারির কারণে উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে বাংলাদেশ সরবরাহ ও চাহিদা দ্বিমুখী সংকটের সম্মুখীন।

এই সংকট থেকে মুক্তি পেতে বেশকিছু পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। বিভিন্ন খাতে প্রায় ১১ দশমিক ৬০ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের প্যাকেজ ঘোষণা করা হয়েছে যার মূল সুবিধা ভোগ করবে উৎপাদন ও সেবা খাত, কৃষি ও সামাজিক সুরক্ষামূলক খাতসমূহ।

এই সহায়তা প্যাকেজটি বাংলাদেশের জিডিপির শতকরা ৩ দশমিক ৩ ভাগের সমান। সংকট প্রলম্বিত হলে খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য কৃষি উৎপাদন বাড়াতে প্রধানমন্ত্রী এ সময় শুধু কৃষি খাতে প্রায় সাড়ে তিন বিলিয়ন ডলার প্রণোদনা দিয়েছেন।

লেখাবাহুল্য, প্রথম করোনায় আক্রান্ত ব্যক্তি শনাক্ত হওয়ার খবর পাওয়ার পর থেকে ২৭ এপ্রিল পর্যন্ত করোনা ভাইরাস মোকাবেলায় করণীয় বিষয়ে চিকিৎসকসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের নিয়ে একাধিক বৈঠক করেছেন প্রধানমন্ত্রী। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে ২৪ ঘণ্টা নিয়ন্ত্রণ কক্ষ খোলা ও সার্বক্ষণিক মনিটরিংয়ের সূচনা হয় ৮ মার্চ থেকেই।

১৫ মার্চ সন্ধ্যায় করোনা ভাইরাস নিয়ে সার্কভুক্ত দেশগুলোর সঙ্গে ভিডিও কনফারেন্স করেন তিনি। ২৯ মার্চ পুনরায় কর্মহীনদের তালিকা করে ত্রাণ বিতরণের জন্য জেলা প্রশাসকদের নির্দেশ দেন।

যেসব কর্মজীবী মানুষ কর্মহীন হয়ে খাদ্য সমস্যায় আছে প্রধানমন্ত্রী সেসব কর্মহীন লোক (ভিক্ষুক, ভবঘুরে, দিনমজুর, রিকশাচালক, ভ্যানচালক, পরিবহন শ্রমিক, রেস্টুরেন্ট শ্রমিক, ফেরিওয়ালা, চায়ের দোকানদার) যারা দৈনিক আয়ের ভিত্তিতে সংসার চালায় তাদের তালিকা প্রস্তুত করে খাদ্য সহায়তা প্রদানের জন্য নির্দেশনা দিয়েছেন।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দলীয় নেতা-কর্মী এবং সরকারের সকল স্তরে যেমন যোগাযোগ রক্ষা করে চলেছেন, তেমনি দেশের কোথায় কী করতে হবে, কী ঘটছে যাবতীয় বিষয়ে সার্বিক দিকনির্দেশনা দিচ্ছেন। ৫ এপ্রিল গণভবনে প্রেস কনফারেন্স করেন তিনি।

করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাবে দেশের সম্ভাব্য অর্থনৈতিক প্রভাব উত্তরণে নতুন করে ৬৭ হাজার ৭৫০ কোটি টাকার প্যাকেজ ঘোষণা করেন। নতুন চারটিসহ পাঁচটি প্যাকেজে আর্থিক সহায়তার পরিমাণ ৭২ হাজার ৭৫০ কোটি টাকা।

১৩ এপ্রিল বাংলা নববর্ষ ১৪২৭ উপলক্ষে জাতির উদ্দেশে ভাষণ দেন তিনি। ১৬ এপ্রিল থেকে একাধিক দিন তিনি বিভাগ ও জেলাভিত্তিক মাঠ পর্যায়ের প্রশাসকদের সঙ্গে ভিডিও কলে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছেন।

১৯৮১ সালের ১৭ মে থেকে ১৯৯৫ এবং ২০০১-২০০৭ সাল পর্যন্ত জনগণের ভোট ও ভাতের অধিকার প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে অবতীর্ণ ছিলেন রাষ্ট্রনায়ক শেখ হাসিনা। তাঁর সেই দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনের অভিজ্ঞতা থেকে তিনি বাংলাদেশের মানুষের অবস্থা সম্পর্কে সচেতন।

তিনি শ্রমজীবী মানুষ বা খেটে খাওয়া মানুষের ঘরের খবর জানেন, তিনি মধ্যবিত্তের কথাও ভাবেন। আবার দেশের শিল্প-কলকারখানা বাঁচাতে হবে তাও টের পান। এসব দিকে তিনি খেয়াল রেখেছেন। কিন্তু তিনি সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন স্বাস্থ্যসেবায় নিয়োজিত ডাক্তার, নার্স ও সংশ্লিষ্টদের প্রতি।

করোনা মোকাবিলায় ফ্রন্টলাইনে থাকা চিকিৎসক, ব্যাংক কর্মকর্তা এবং পুলিশ ও সেনাবাহিনীর সদস্যদের জন্য স্বাস্থ্যবীমা চালু করেছেন তিনি। ঝুঁকি নিয়ে কাজ করা ও বিপদের মধ্যে থাকা মিডিয়া কর্মীরাও তাঁর সহানুভূতি থেকে বঞ্চিত হবেন না বলেই আমার বিশ্বাস। মূলত করোনা পরিস্থিতি মোকাবেলায় শেখ হাসিনা সরকারের নেয়া বিভিন্ন পদক্ষেপ প্রধানমন্ত্রীর প্রতিদিনের কর্মসূচিতে উচ্চারিত ও বাস্তবায়ন হচ্ছে।

Share with Others

শেয়ার করুন:

Share on facebook
Share on twitter
Share on linkedin
Share on pinterest
Share on whatsapp
Share on email
Share on print

আরও পড়ুন:

বিশ্বজুড়ে করোনাভাইরাস

বাংলাদেশে

আক্রান্ত
১৭৮,৪৪৩
সুস্থ
৮৬,৪০৬
মৃত্যু
২,২৭৫

বিশ্বে

আক্রান্ত
৬১,৩৩১,৭০৬
সুস্থ
৪২,৪১১,৩০৮
মৃত্যু
১,৪৩৮,০৯৬

আর্কাইভ

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
১০১১১২১৩১৪
১৫১৬১৭১৮১৯২০২১
২২২৩২৪২৫২৬২৭২৮
২৯৩০