রবিবার, ২৮শে আষাঢ়, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ
১২ই জুলাই, ২০২০ ইং
২০শে জিলক্বদ, ১৪৪১ হিজরী
ads

‘বাংলাদেশ ছাত্রলীগ ১৯৪৮-২০২০’ নামক ভূয়া গ্রুপ সম্পর্কে সতর্ক করল ছাত্রলীগ

দেশটুডে২৪ ডেস্ক: সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছাত্রলীগের সাবেক নেতাকর্মীদের সমন্বয়ের নামে গ্রুপ খুলে তথ্য হাতিয়ে নেয়া ও অপপ্রচার চালানোর অভিযোগ উঠেছে একটি গ্রুপের বিরুদ্ধে। এছাড়াও সংগঠনের নামে আরো কয়েকটি পেইজ ও গ্রুপ খোলা হলেও এসবের সঙ্গে ছাত্রলীগের কোন সম্পর্ক নেই বলে জানিয়েছেন সংগঠনের শীর্ষ নেতারা। এসব গ্রুপ থেকে কোন তথ্যে বিভ্রান্তি ছড়ালে তার দায় ছাত্রলীগ নেবে না বলে জানিয়ে নেতাকর্মীদের প্রতি সতর্কতা প্রকাশ করেছেন তারা।

জানা যায়, সম্প্রতি ‘বাংলাদেশ ছাত্রলীগ, ১৯৪৮ থেকে ২০২০’ নামে একটি গ্রুপ খোলা হয়। সেই গ্রুপে সাবেক নেতাকর্মীরা এসে সাবেক সহকর্মীদের সঙ্গে পরিচিত হতে নিজেদের রাজনৈতিক পরিচয় ও ব্যক্তিগত তথ্য দেন। তবে কিছুদিন পরেই সেই গ্রুপ থেকে তথ্য হাতিয়ে নেয়ার ঘটনা ঘটে বলে জানা গেছে।

সম্প্রতি ছাত্রলীগের সাবেক কয়েকজন নেতা এ অভিযোগ করেছেন। তারা জানান, তাদের দেয়া পোস্ট রিমুভ করে দেয়ার ঘটনা ঘটেছে। এছাড়া পূর্বে থাকা এডমিনদেরকেও রিমুভ করে ফেক আইডি থেকে গ্রুপ পরিচালনা করছেন। এতে করে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন ছাত্রলীগের সাবেক নেতাকর্মীরা।

এ বিষয়ে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগ সাবেক সাধারণ সম্পাদক রাজিব আহমেদ রাসেল তার ফেসবুকে লিখেছেন, বাংলাদেশ ছাত্রলীগ:১৯৪৮ থেকে ২০২০ গ্রুপটি কে বা কারা খোলেছিল প্রথমে জানতাম না। তবে উদ্যোগটি বেশ ভালো লেগেছিল। মেম্বারও দেখলাম অনেক। আমিও গ্রুপের মেম্বার হই। হঠাৎ একদিন পরিচিত ভাইব্রাদার মডেরেটর হওয়ার রিকুয়েস্ট পাঠালো আর ছাত্রলীগের গ্রুপ তাই একসেপ্ট করে নিলাম।

এ দিকে আরেকটি গ্রুপ খোলছে বাংলাদেশ ছাত্রলীগের সাবেক শ্রদ্ধেয় অগ্রজরা ‘১৯৪৮ থেকে বর্তমান’। এ গ্রুপের সাথেও সম্পৃক্ত।ব্যক্তিগত ও পারিবারিক ব্যস্ততার কারণে এতদিন সময় দিতে পারিনি কোনটার মধ্যেই। যখনই কাজ করার জন্য মন স্থির করলাম তখনই দেখলাম ‘১৯৪৮ থেকে ২০২০’ এই গ্রুপটি নেই। পরে আরো লক্ষ্য করলাম এডমিন-মডেরেটরের কেউ নেই, ২/১ একজন নিজের সার্থে গ্রুপটি নিজেদের কব্জায় নিয়েছে। এমনকি ২/৩ জনের আইডিও না কি নষ্ট করে দিয়েছে।

আমরা যারা ছাত্রলীগ করি, তারা ছাত্রলীগের কোন প্লাটফর্ম দেখলেই কাজ করার চেষ্টা করি। সেই কৌতুহল থেকেই এই গ্রুপে ছিলাম।শুধু মাত্র সংগঠনের প্রতি ভালোবাসার জায়গা থেকেই আওয়ামী গড়ানার কোন প্লাটফর্ম পেলে সম্পৃক্ত হই, আর ছাত্রলীগের প্লাটফর্ম পেলে তো কথাই নেই।

১৯৪৮ থেকে ২০২০ এই গ্রুপটির সাথে এখন আমার আর কোন সম্পৃক্ততা নেই। গ্রুপটি তার মূলউদ্দেশ্য থেকে সরে আসছে। আমি ওখান থেকে নিজেকে গুটিয়ে নিচ্ছি। যে গ্রুপ ছাত্রলীগ কর্মীদের আবেগকে কুক্ষিগত এবং ব্যক্তিগত মনোবাসনা পূরণ করতে চায় সে গ্রুপ থেকে আমি আমার নৈতিকতার ও সাংগঠনিক জায়গা থেকে সরে আসলাম।

ছাত্রলীগের সাবেক নেতা মো. রিয়েল বলেন, গ্রুপটিতে যুক্ত হয়েছিলাম সংগঠনের সাবেক বন্ধু, বড় ভাইদের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার জন্য। গত কয়েক দিন আগে পরিচিত একজন আমাকে গ্রুপের এডমিন করেছিল। হঠাৎ গ্রুপটিতে আমাকে ব্লক করে দেয় এবং পরিচিত যাদের এডমিন করা হয়েছিল তাদেরকেও রিমুভ করা হয়েছে। এখন একটা নিরাপত্তাহীনতা তৈরি হয়েছে।

গ্রুপটি অবিলম্বে বন্ধ করার দাবি জানিয়ে তিনি বলেন, এই গ্রুপটির সাথে এখন আর আমার কোন সম্পৃক্ততা নেই।

ঢাকা মহানগর উত্তর ছাত্রলীগের সভাপতি মো. ইব্রাহিম হোসেন বলেন, কিছুদিন আগে ফেসবুকে একটি রিকোয়েস্ট আসে ‘বাংলাদেশ ছাত্রলীগ ১৯৪৮ থেকে ২০২০’ নামে একটি গ্রুপ থেকে। সেখানে যুক্ত হয়ে দেখি আমাদের বহু বর্তমান ও সাবেক নেতাকর্মী রয়েছেন। পরে ওই গ্রুপে আমাকে এডমিন করা হয়। কিন্তু গ্রুপটি ব্যক্তি স্বার্থে ব্যবহৃত হওয়া গ্রুপ থেকে আমি লিভ নিয়ে বের হয়ে যায়।

তিনি বলেন, এক সাংবাদিক বড় ভাইয়ের অনুরোধে আবার গ্রুপটিতে যুক্ত হই। পরে আমাকে ওখান মডারেটর করা হয়। সম্প্রতি দেখতে পাই আমার পরিচিত এডমিন-মডারেটরকে ধীরে ধীরে বের করে দেয়া হচ্ছে। এমনকি বহুজনের আইডি হ্যাক করা হয়েছে। এই গ্রুপটির সাথে এখন আর আমার কোন সম্পৃক্ততা নেই। এই গ্রুপ থেকে সবাইকে সচেতন থাকার আহ্বান জানাই।

এদিকে ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি আল নাহিয়ান খান জয় বলেন, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সংগঠনের নামে নানা সময় নানা গ্রুপ আমাদের নজরে এসেছে। অনেক গ্রুপ থেকে নানাসময় বিভ্রান্তি ছড়ানো হয়েছে। আমাদের নিজস্ব একটি পেইজ রয়েছে। এই পেইজের বাইরে কোন গ্রুপ থেকে কোন বিভ্রান্তি ছড়ালে তার দায় আমাদের নয়।

এ সময় তিনি নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে বলেন, ছাত্রলীগের নিজস্ব পেইজের বাইরে কোন তথ্য দিলে তাতে আমাদের কোন সংশ্লিষ্টতা নেই। এছাড়া এসব গ্রুপ বন্ধেও ব্যবস্থা নেয়া হবে।

এ বিষয়ে ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক লেখক ভট্টাচার্য বলেন, ছাত্রলীগের নাম করে বিভিন্ন গ্রুপের সংবাদ রযেছে আমাদের কাছেও। নেতাকর্মীদের এসব গ্রুপের সঙ্গে যুক্ত না হতে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে আগেও। কোন গ্রুপ থেকে সংগঠনের কাউকে বিভ্রান্ত করা হলে তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেয়া হবে।

এ সময় এসব গ্রুপের সঙ্গে যুক্ত না হওয়া ও গ্রুপ থেকে পাওয়া তথ্যে বিভ্রান্ত না হওয়ার নির্দেশ দেন তিনি। সূত্র: মানবকন্ঠ।

শেয়ার করুন:

Share on facebook
Share on twitter
Share on linkedin
Share on pinterest
Share on whatsapp
Share on email
Share on print

আরও পড়ুন:

বিশ্বজুড়ে করোনাভাইরাস

বাংলাদেশে

আক্রান্ত
১৭৮,৪৪৩
সুস্থ
৮৬,৪০৬
মৃত্যু
২,২৭৫

বিশ্বে

আক্রান্ত
১২,৮৭৩,৫৪৫
সুস্থ
৭,৫০৩,১১৩
মৃত্যু
৫৬৮,৩২১

আর্কাইভ