শুক্রবার, ২৬শে আষাঢ়, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ
১০ই জুলাই, ২০২০ ইং
১৭ই জিলক্বদ, ১৪৪১ হিজরী
ads

ঈদের পরেই মন্ত্রিসভার বড় রদবদল?

দেশটুডে২৪ ডেস্ক: মন্ত্রিসভার রদবদল নিয়ে গত কিছুদিন ধরেই কথা হচ্ছিল, বিশেষ করে করোনা সঙ্কটের সময় বর্তমান মন্ত্রিসভার অনেকের যোগ্যতা এবং দায়িত্বশীলতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে জনগণের মধ্যে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নিজেও মন্ত্রিসভার অনেক সদস্যের পারফরমেন্সে সন্তুষ্ট নন বলে তাঁর ঘনিষ্ঠরা জানিয়েছেন।
করোনার প্রকোপ শুরু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই করোনা মোকাবেলার সকল দায়িত্ব প্রধানমন্ত্রী নিজের হাতে নিয়েছেন। এখানে অযোগ্য, ব্যর্থদের দায়িত্ব দিয়ে কোন প্রকার ভুলভ্রান্তি হলে তাঁর শেষ ফল সরকার এবং জনগণকে পোহাতে হবে এমন বিবেচনায় প্রধানমন্ত্রী করোনা মোকাবেলার সকল দায়িত্ব নিজের কাঁধে তুলে নিয়েছিলেন। কিন্তু এই সময়েও তিনি মন্ত্রীদের অযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন, অসন্তোষ প্রকাশ করেছিলেন। তখনই এটা চাউর হয়েছিল যে আওয়ামী লীগের মন্ত্রিসভায় বোধ হয় রদবদল হতে যাচ্ছে।
২০১৮ সালের ৩০শে ডিসেম্বর আওয়ামী লীগ বিপুল ভোটে বিজয়ী হয়ে টানা তৃতীয়বারের মতো ক্ষমতায় বসে এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা টানা তৃতীয়বার এবং মোট চতুর্থবারের মতো প্রধানমন্ত্রী হন। প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পরে তিনি নতুন যে মন্ত্রিসভা গঠন করে, তা ছিল চমকে ভরপুর। দলের মধ্যে সিনিয়র, অভিজ্ঞদের বাদ দিয়ে মন্ত্রিসভায় তিনি স্থান দেন অপেক্ষাকৃত অপরিচিত ব্যবসায়ী এবং নবীন নেতৃত্ববৃন্দকে।
উল্লেখ্য যে, ২০০৯ সালে যখন শেখ হাসিনা প্রথম দায়িত্ব গ্রহণ করেন, তখন থেকেই তিনি ঘুরিয়ে-ফিরিয়ে মন্ত্রিসভা গঠন করছিলেন এবং মন্ত্রিসভায় বারবার পরিবর্তন আনছিলেন। ২০০৯ সালে যখন তিনি প্রথম মন্ত্রিসভা গঠন করেন, সেই মন্ত্রিসভাও ছিল চমকে ভরপুর, অপেক্ষাকৃত তরুণদের দিয়ে মন্ত্রিসভা গঠন করেছিলেন। কিন্তু ঐ মন্ত্রিসভাতেও বেগম মতিয়া চৌধুরী, এডভোকেট সাহারা খাতুন, সৈয়দ আশরাফুল ইসলামের মতো প্রবীণ নেতারা স্থান পেয়েছিলেন। কিন্তু এবারের মন্ত্রিসভায় ওবায়দুল কাদের, ড. আব্দুর রাজ্জাক, ডা. দীপু মনি, হাসান মাহমুদ ছাড়া অন্যকোন গুরুত্বপূর্ণ নেতারাই স্থান পাননি। আর মন্ত্রিসভার কাজের পারফরমেন্স নিয়েও শুরু থেকে প্রশ্ন উঠছিল। কয়েকজন ছাড়া অধিকাংশ মন্ত্রীদের পারফরমেন্স হতাশাজনক ছিল বলেই মনে করা হয়। বিশেষ করে যখন যে সঙ্কট আসে, সে সঙ্কট মোকাবেলায় মন্ত্রীরা দায়িত্ব নিয়ে কাজ করতে পারেননি বলেও অভিযোগ ওঠে।

এই প্রেক্ষিতেই মন্ত্রিসভায় রদবদলের কথা বিভিন্ন সময়ে আলোচনায় এসেছিল। তবে এই মন্ত্রিসভায় দুই দফায় ছোটখাটো রদবদল হলেও বড় ধরণের রদবদল দেখা যায়নি। এবার প্রধানমন্ত্রী কিছু কিছু মন্ত্রীর পারফরমেন্সে অত্যন্ত বিরক্ত এবং হতাশ বলেই জানা গেছে এবং তাঁরা যে মন্ত্রণালয় পরিচালনার ক্ষেত্রে কোন দায়িত্বেরই পরিচয় দেননি- এমনটা প্রধানমন্ত্রী তাঁদের ঘনিষ্ঠদেরকেও জানিয়েছেন। একারণেই প্রধানমন্ত্রী মন্ত্রিসভার বড় ধরণের রদবদল করতে যাচ্ছেন বলে ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে।
সরকার ধারণা করছে যে, করোনা পরিস্থিতি চলতি মাসের মধ্যেই একটি স্বাভাবিক অবস্থার ভেতর আসবে এবং এই সময় মন্ত্রিসভায় রদবদলটা করা জরুরী। উল্লেখ্য যে, একাধিক গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীদেরকে রদবদলে হয় ছাঁটাই, নাহলে অপেক্ষাকৃত কম গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ে দেয়া হতে পারে।
এছাড়াও যেসমস্ত মন্ত্রাণালয়ের মন্ত্রীরা নন পারফরমিং বা কাজ করতে পারেন না তাঁদের বদলে অপেক্ষাকৃত দক্ষ এবং দলীয় কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত এমন ব্যক্তিকে মন্ত্রিসভার দায়িত্ব দেওয়ার পরিকল্পনা হচ্ছে বলে একাধিক দায়িত্বশীল সূত্র আভাস দিয়েছে। তবে মন্ত্রিসভায় দু-একজন হেভিওয়েট নেতাদেরকেও ফিরিয়ে আনার বিষয়টিও আলোচনা হচ্ছে। কারণ একটা অভিজ্ঞতা হয়েছে যে, সঙ্কটকালীন সময়ে নবীন মন্ত্রীরা দায়িত্ব নিতে পারেন না এবং ভেঙ্গে পড়েন। সামান্য সমালোচনাতেই তাঁরা অস্থির হয়ে যান। কাজেই দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক অভিজ্ঞ এবং পোড় খাওয়া রাজনীতিবিদ, দলের হেভিওয়েট নেতা- এমন কয়েকজনকে মন্ত্রিসভায় অন্তর্ভুক্ত করার পরিকল্পনা প্রধানমন্ত্রী করছেন বলেও তাঁর ঘনিষ্ঠ সূত্রগুলো ইঙ্গিত দিয়েছেন।

কারণ সামনে অর্থনৈতিক সঙ্কট শুরু হবে, কাজেই এখন যদি মন্ত্রিসভা ঠিকমতো দায়িত্ব পালন করতে না পারে এবং মন্ত্রী আর সচিবদের মধ্যে সমন্বয় না হয়, দায়িত্ব যদি সঠিকভাবে প্রতিপালিত না হয়, তাহলে অর্থনৈতিক সঙ্কটসহ অন্যান্য সঙ্কট মোকাবেলা কঠিন হয়ে পড়বে। আর একারণেই মন্ত্রিসভায় একটি বড় ধরণের রদবদলের আভাস সরকারের ভেতর থেকে পাওয়া যাচ্ছে।

শেয়ার করুন:

Share on facebook
Share on twitter
Share on linkedin
Share on pinterest
Share on whatsapp
Share on email
Share on print

আরও পড়ুন:

বিশ্বজুড়ে করোনাভাইরাস

বাংলাদেশে

আক্রান্ত
১৭৫,৪৯৪
সুস্থ
৮০,৮৩৮
মৃত্যু
২,২৩৮

বিশ্বে

আক্রান্ত
১২,২৮৭,৬১৫
সুস্থ
৭,১৪৭,৭০৩
মৃত্যু
৫৫৪,৬২০

আর্কাইভ