শুক্রবার, ১৯শে আষাঢ়, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ
৩রা জুলাই, ২০২০ ইং
১১ই জিলক্বদ, ১৪৪১ হিজরী
ads

ঈদের নামাজ ঘরে পড়া নিয়ে যা বললেন আজহারী

দেশটুডে২৪ ডেস্ক: ঈদের নামাজ ঈদগাহ ছাড়া জায়েজ হয় কিনা এ বিষয়ে বিভিন্ন মাজহাবের ইমামের মতপার্থক্যগুলো আলোচনা করেছেন এই সময়ের অন্যতম জনপ্রিয় আলেম মাওলানা মিজানুর রহমান আজহারী।

বাংলাদেশ সময় বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত পৌনে ১০টায় মালয়েশিয়া থেকে ফেসবুক লাইভে মাহে রমজান, যাকাতের গুরুত্ব ও ঈদের জামায়াত নিয়ে এক ঘণ্টারও বেশি সময় আলোচনা করেন তিনি।

ইতিমধ্যে তার ওই ফেসবুক লাইভ ইতিমধ্যে সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়ে গিয়েছে।
বক্তব্যটি মিজানুর রহমান আজহারীর অফিসিয়াল ফেসবুক পেজে লাইভ সম্প্রচারিত হয়। সম্প্রচারের প্রথম তিন ঘণ্টাতেইপ্রথম তিন ঘণ্টায় প্রায় ১ মিলিয়ন (১০ লাখ) দর্শক দেখেছেন। আর ওই সময়ের মধ্যে ১ লাখ ৮০ হাজারেরও বেশি মানুষ তার এ বক্তব্যে লাইক ও কমেন্ট করেছেন।

মধ্যে ৩৮ হাজার দর্শক বক্তব্যটি
নিজেদের টাইমলাইনে শেয়ার করেছেন।
শুক্রবার সন্ধ্যা ৭টার দিকে এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত মোট ১৩ লাখেরও বেশি দর্শক ওই ভিডিওটি দেখেছেন। শেয়ার করেছেন ৪৩ হাজার ভার্চুয়ালবাসী। দুই লক্ষাধিক মানুষ লাইক ও কমেন্ট করেছেন।

প্রতি মুহূর্তে বাড়ছে লাইক, কমেন্ট ও শেয়ারের সংখ্যা।
বর্তমান সময়ের আলোচিত ইসলামী বক্তা মাওলানা মিজানুর রহমান আজহারী তার বক্তব্যে বলেন, যেহেতু করোনা পরিস্থিতির কারণে এখন গোটা বিশ্ব লকডাউন চলছে। ক্রাইসিস মুমেন্ট (সংকটময় মুহূর্ত)। গোটা বিশ্ববাসী এখন আতংকিত।

গোটা বিশ্বের মানুষ এখন খুব বিপদের মধ্যে আছে। ফলে আমাদের মসজিদগুলো এখন বন্ধ। নামাজগুলো আমাদের ঘরে পড়তে হচ্ছে। এমনকি জুমার সালাতও মসজিদে আদায় করতে পারছি না। জুমার সালাতের পরিবর্তে জোহরের সালাত আদায় করতে হচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে আর দুই দিন পরেই আমরা ঈদুল ফিতর উদযাপন করতে যাচ্ছি।
বক্তব্যে মিজানুর রহমান আজহারী বলেন, বিগত যেকোনো বছরের ঈদের তুলনায় এই বছরের ঈদটি সম্পূর্ণ ব্যতিক্রম। কেননা এই মহামারীকালীন ঈদের সালাত জামায়াতে আদায় করা সম্ভব নাও হতে পারে।

ভিডিওতে করোনা পরিস্থিতিতে সংক্রমণ ঠেকাতে ও সুস্থতা বজায় রাখতে তিনি ঈদের সালাত একা বা ঘরে আদায় কিংবা সর্বোচ্চ কয়েকজন মিলে ঈদের জামায়াত পড়ার পরামর্শ দেন তিনি।
মিজানুর রহমান আজহারী বলেন, ঈদের নামাজে আজান ও ইকামাত দেয়ার প্রয়োজন নেই। ঈদের নামাজে অতিরিক্ত কিছু তাকবির দিতে হয়। অতিরিক্ত তাকবিরের বর্ণনা দিয়ে আজহারী বলেন, মাজহাব ভেদে তাকবিরের সংখ্যার পার্থক্য রয়েছে। হানাফি মাজহাবে ছয়টি অতিরিক্ত তাকবির দেয়া হয়ে থাকে। প্রথম রাকআতে তিনটি দ্বিতীয় রাকাআতে তিনটি।
শাফিঈ মাজহাবে ১২টি অতিরিক্ত তাকবির দিতে হয়। সেক্ষেত্রে প্রথম রাকআতে সাতটি ও দ্বিতীয় রাকআতে পাঁচটি। হাম্বলি আর মালিকি মাজহাবে ১১টি অতিরিক্ত তাকবির দেয়া হয়ে থাকে। প্রথম রাকাআতে ছয়টি আর দ্বিতীয় রাকাআতে পাঁচটি।
তবে বাংলা ভাষাভাষীরা মূলত হানাফি মাজহাবের অনুসারী হয়ে থাকে। সেক্ষেত্রে তিনি ছয় তাকবিরই পড়ার পরামর্শ দেন।
ঈদের নামাজ ঘরে পড়ার নিয়ম
মিজানুর রহমান আজহারী বলেন, নামাজে দাঁড়িয়ে তাকবিরে তাহরীমা অর্থাৎ ‘আল্লাহু আকবার’ বলে সানা পড়তে হবে। তারপর কেরাত পড়ার আগে অতিরিক্ত তিনটি তাকবির দিতে হবে অর্থাৎ ‘আল্লাহু আকবর’ তিনবার বলতে হবে। এরপর সূরা ফাতিহার সঙ্গে অন্য একটি সূরা এবং অন্য সকল নামাজের ন্যায় রুকু ও সিজদাহ করতে হবে।
এবার দ্বিতীয় রাকাআতের জন্য দাঁড়িয়ে প্রথমে কেরআন পড়তে হবে অর্থাৎ সূরা ফাতিহা ও সঙ্গে অন্য একটা সূরা পড়তে হবে। এরপর রুকুতে যাওয়ার আগে তিনটি তাকবির অর্থাৎ ‘আল্লাহু আকবার’ তিনবার বলতে হবে এবং চতুর্থ তাকবির দিয়ে তারপর রুকুতে যেতে হবে। এখানে তিনটি অতিরিক্ত তাকবির ও চতুর্থটি নামাজের স্বাভাবিক তাকবির। এভাবে ছয়টি অতিরিক্ত তাকবির দেয়ার মধ্য দিয়ে খুব সহজেই ঈদের নামাজ আদায় করা যেতে পারে।তবে ঈদের সালাত ঘরে আদায়ের ক্ষেত্রে খুতবার প্রসঙ্গটি বাদ যাবে। কেননা খুতবা সবার উদ্দেশে ইমাম সাহেব দিয়ে থাকেন।
সবাইকে বেশি বেশি দোয়া পড়ার আহ্বান
সবশেষে তিনি ঘূর্ণিঝড় আম্পানে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষদের জন্য সহানুভূতি জানান ও তাদের জন্য বিশেষ দোয়া করেন। আর করোনাভাইরাস মহামারীতে সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান। আর এই মহামারী থেকে পরিত্রাণের জন্য আল্লাহর কাছে সবাইকে বেশি বেশি দোয়া করার আহ্বান জানান।

শেয়ার করুন:

Share on facebook
Share on twitter
Share on linkedin
Share on pinterest
Share on whatsapp
Share on email
Share on print

আরও পড়ুন:

বিশ্বজুড়ে করোনাভাইরাস

বাংলাদেশে

আক্রান্ত
১৫৬,৩৯১
সুস্থ
৬৮,০৪৮
মৃত্যু
১,৯৬৮

বিশ্বে

আক্রান্ত
১১,০১৫,২১৮
সুস্থ
৬,১৭১,৮৪৭
মৃত্যু
৫২৪,৭৪৩

আর্কাইভ