বৃহস্পতিবার, ১৮ই আষাঢ়, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ
২রা জুলাই, ২০২০ ইং
১০ই জিলক্বদ, ১৪৪১ হিজরী
ads

হোমনায় বাঁশি পল্লীর কারিগররা সরকারী সাহায্য পেয়ে খুব খুশি

মো.নাছির উদ্দিন-হোমনা-কুমিল্লা-প্রতিনিধি:

কুমিল্লার হোমনা উপজেলা সদর থেকে ৩ কিমি. পশ্চিমে শ্রীমদ্দি গ্রামটি বাঁশির গ্রাম হিসেবে পরিচিত। ব্রিটিশ আমল থেকে এ গ্রামের অধিকাংশ নারী-পুরুষই এ বাঁশি শিল্পের সঙ্গে জড়িত ছিল। বর্তমানে ডিজিটাল সাউন্ড সিস্টেমের ছোবলে বাঁশির কদর কিছুটা হ্রাস পেলেও পহেলা বৈশাখ এলে মুলি বাঁশির কদর বাড়ে। বৈশাখী মেলার প্রধান উপকরণ এ মুলি বাঁশি। নববর্ষে পান্তা ইলিশ,মঙ্গল শোভা যাত্রা ও বৈশাখী মেলার মুলি বাঁশি বাংলার ঐতিহ্য। বর্তমান বিশ্বে আধুনিক সাউন্ড সিস্টেমকে হার মানিয়ে এ মুলিবাঁশি রফতানি হচ্ছে মধ্যপ্রাচ্যসহ বিশ্বের অনেক দেশে।
বর্তমানে এ গ্রামে মাত্র ৩০/৪০টি পরিবার এ শিল্পের সঙ্গে জড়িত। বিকল্প পেশায় অভিজ্ঞতা না থাকায় বেঁচে থাকার তাগিদে কোনো রকম বাঁশি তৈরির পেশায় রয়েছে তারা। গত ১৪ এপ্রিল ১৪২৭ বঙ্গাব্দ শুভ নববর্ষ। পহেলা বৈশাখ উপলক্ষে বৈশাখী মেলায় মুলি বাঁশির পাইকাররা আসে গ্রামে নিয়ে যায় তাদের পছন্দের বাঁশি । বছরের একটি মাস বাঁশি পল্লীতে বাঁশি তৈরিতে ব্যস্ত থাকার কথা ছিল কারিগররা। অন্যান্য বছর ঘরে ঘরে বিরাজ করতো উৎসবের আমেজ, দুরদুরান্ত থেকে আত্মীয় স্বজন আসতো বাড়িতে এ নিয়ে আনন্দ ও কোলাহলে মুখরিত ছিল পুরো পল্লী। কিন্ত এ বছর নোভল করোনা ভাইরাসের হিংস্র থাবায় লন্ডভন্ড করে দিয়েছে তাদের সেই আশা ভরসা উৎসাহ আনন্দ। বাঁশির কারিগর অনিল চন্দ্র জানায় বৈশাখী মৌসুমে এখানকার কারিগররা দৈনিক ৫’শ থেকে ১ হাজার টাকা রোজগার করতো। এখানে পনের ধরনের বাঁশি তৈরি হয়। যেমন তোতা (মুখ) বাঁশি, মোহন বাঁশি, ফেন্সি বাঁশি, খানদানি বাঁশি, আর বাঁশি , বীণ বাঁশি, বেলুন বাঁশি ইত্যাদি।
আজ করোনার ভয়াবহতার কারনে কারিগরদের রান্না ঘরে চুলা জ্বলে না। অনাহারে অর্ধাহারে মানবেতর জীবন যাপন করছে তারা। হোমনা পৌর মেয়র এ্যাড. নজরুল ইসলাম তাদের দুর্দশার কথা জানতে পেরে তার প্রচেষ্ঠায় কুমিল্লা-২ হোমনা- তিতাস) আসনের সংসদ সদস্য সেলিমা আহমাদ মেরীর সহযোগীতায় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রনালয়ের মানবিক তহবিলের আওতায় বাঁশি পল্লীর ২০ টি পরিবারের মাঝে খাদ্য সামগ্রী বিতরণ করেছেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার( ইউএনও) তাপ্তি চাকমা। খাদ্য সামগ্রীর মধ্যে ১০ কেজি চাল,৫ কেজি আলু ও ১ কেজি করে ডাল রয়েছে।

শনিবার সকাল ১১টার দিকে পশ্চিম শ্রীমদ্দি সরকাী প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে এ খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করা হয়।
হোমনা পৌর মেয়র এ্যাড. নজরুল ইসলামের সভাপতিত্ব প্রধান অতিথি ছিলেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার( ইউএনও) তাপ্তি চাকমা, এ সময় উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (টিআইও)মোহাম্মদ নাহিদ আহাম্মদ জাকির, উপজেলা আ’লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক শাহিনুজ্জামান খোকন,পৌর আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক মোয়াজ্জম হোসেন মোসলেম, সমন্বয় কারী অফিসার মো.সিরাজুল ইসলাম, প্যানেল মেয়র শাহনুর আহাম্মদ সুমন, মো.কামাল হোসেন, কাউন্সিলর,সিরাজুল ইসলাম,আবদুল কাদির,সুরাইয়া বেগম সহ এলাকার গন্যমান্য ব্যক্তি এ সময় উপস্থিত ছিলেন ।
এ দিকে সরকারী খাদ্য সামগ্রী পেয়ে বাঁশি পল্লীর কারিগররা খুব খুশি। দৈনিক যুগান্তর প্রতিনিধির সাথে আলাপ কালে তারা বলেন,আজ আমরা অনেক খুশি। তারা ইউএনও,মেয়র,সংসদ সদস্য ও প্রধান মন্ত্রীর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

জানাগেছে,ইউএনও তাপ্তি চাকমা ও পৌর মেয়র এ্যাড. নজরুল ইসলামের নেতৃত্বে পৌর সভার ৯ ওয়ার্ডের বিভিন্ন শ্রেণি পেশার নিম্ন আয়ের ৩০০ পরিবারের মাঝে এ খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করা হয়েছে।

শেয়ার করুন:

Share on facebook
Share on twitter
Share on linkedin
Share on pinterest
Share on whatsapp
Share on email
Share on print

আরও পড়ুন:

বিশ্বজুড়ে করোনাভাইরাস

বাংলাদেশে

আক্রান্ত
১৫৩,২২৭
সুস্থ
৬৬,৪৪২
মৃত্যু
১,৯২৬

বিশ্বে

আক্রান্ত
১০,৮৭৩,৮১৫
সুস্থ
৬,০৮০,৩৫২
মৃত্যু
৫২০,৪১০

আর্কাইভ