শুক্রবার, ১৭ই আশ্বিন, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ
২রা অক্টোবর, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ
১৪ই সফর, ১৪৪২ হিজরি
ads

আজ বাংলাদেশ ছাত্রলীগের ৭২তম জন্মদিন

কাজী খলিলুর রহমানঃ আজ ৭২তম বৎসরে পদার্পন করেছে দেশ মাতৃকার প্রানের সংগঠন বাংলাদেশ ছাত্রলীগ। এই মহেন্দ্রক্ষণে সবাইকে ছাত্রলীগের পক্ষ থেকে শুভেচ্ছা। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের হাতে তৈরি বাঙালির মুক্তি ও সংগ্রামের অগ্রভাগের সংগঠন বাংলাদেশ ছাত্রলীগ। শিক্ষা, শান্তি আর প্রগতির তিন তারকাখচিত ঐহিত্যবাহী এই ছাত্র সংগঠনটির ইতিহাস অনেক সমৃদ্ধ। ছাত্রলীগে কোন অপশক্তি নতুন করে ভর করতে পারে না। পিঠে চেপে বসলেও ছিটকে পড়বে ঘোড়ার পিঠে বসা অচেনা সহিসের মতো। যে শক্তি চিরদিন সৃষ্টি করেই গেছে, সে শক্তি ধ্বংস এবং বিনাশের হতে পারে না। ছাত্রলীগের ইতিহাস, গৌরবের ইতিহাস । ১৯৪৮ সালে সময়ের প্রয়োজনেই জন্ম ছাত্রলীগের। গৌরবের শিরোপা মাথায় নিয়েই ছাত্রলীগ আজ তার ৭২তম বসন্তে এসে দাঁড়িয়েছে।

পৃথিবীর দেশে দেশে গণতান্ত্রিক স্বাধীনতা সংগ্রামের ইতিহাস খুঁজলে দেখা যাবে সময়ের প্রয়োজনে জন্ম নিয়েছে অনেক সংগঠন। অতঃপর এগিয়ে নিয়ে গিয়েছে সময়কে।  বছরের পর বছর লড়াই সংগ্রামের আগুনে পুড়ে খাক হয়েছে ছাত্রলীগ নেতা-কর্মীরা। ১৭ হাজার নেতা কর্মীর শাহাদৎবরণের মাধ্যমে মহান মুক্তিযুদ্ধ বীরত্বপূর্ণ নেতৃত্বের গৌরবে গরীয়ান আজকের বাংলাদেশ ছাত্রলীগ।

সময়ের তালে তালে বাঙালির স্বাধিকার ও স্বাধীনতা অর্জনে যেমন এই সংগঠনটি ভূমিকা রেখেছে, তেমনি স্বাধীনতার গৌরবের অর্জন রক্ষায়ও গুরুত্বপপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। ৫২’র ভাষা আন্দোলন, ৫৪’র সাধারণ নির্বাচন, ৫৮’র আইয়ুব বিরোধী আন্দোলন, ৬২’র শিক্ষা আন্দোলন, ৬৬’র ৬ দফা আন্দোলন, ৬৯’র গণঅভ্যুত্থান আন্দোলন, ৭০ এর নির্বাচন, ৭১’র মহান মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ, ৯০’র স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলন, ২০০৭-২০০৯ গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের আন্দোলন, এই সকল উপরোক্ত মাইলস্টোনগুলো একমাত্র ছাত্রলীগ-ই অর্জন করেছে।

উপমহাদেশের সর্ববৃহৎ ও পুরনো এই ছাত্র সংগঠনটির আছে শুধুই ত্যাগ আর ইতিহাস গড়ার ইতিহাস। মহান মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে অর্জিত রক্তেভেজা লাল-সবুজের পতাকায়ও মিশে আছে এই সংগঠনের প্রায় ১৭ হাজার নেতাকর্মীর টগবগে তারুণের রক্ত। ১৯৪৮ সালের ৪ জানুয়ারি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবের হাতে প্রতিষ্ঠা হওয়ার পর থেকে বাঙালি জাতির ইতিহাসের প্রতিটি বাঁকে বাঁকেই দেশ মাতৃকার জন্য অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছে বাংলাদেশ ছাত্রলীগ। স্বাধীনতাপরবর্তী নব্বইয়ের দশকে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার আন্দোলনে রাজপথের ঝাঁজালো মিছিলের অগ্রভাগের সাহসী সেনানীর ভূমিকায় ছিল এই সংগঠনের নেতাকর্মীরা। এর পরবর্তী সময়ে দেশের যে কোনো সংকটে মা, মাটি ও মানুষের প্রতি শ্রদ্ধা আর মমত্ববোধ থেকেই পাশে দাঁড়িয়েছে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। দুর্যোগ দুর্ভোগে সব সময়ই আর্তমানবতার পাশে একটি নাম ছাত্রলীগ।

বাংলাদেশের স্থপতি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সবসময় বলতেন, ছাত্রলীগের ইতিহাস বাংলাদেশের ইতিহাস। বাংলা, বাঙালি, স্বাধীনতা ও স্বাধিকার অর্জনের লক্ষ্যে ১৯৪৮ সালের ৪ জানুয়ারি জন্ম নেয় বাংলাদেশ ছাত্রলীগ। প্রতিষ্ঠার সময় ছিল পুর্ব পাকিস্তান ছাত্রলীগ। পরবর্তীতে ১৯৭১ সালে মহান স্বাধীনতা যুদ্ধের পর পূর্ব পাকিস্তান ছাত্রলীগের পরিবর্তে হয় বাংলাদেশ ছাত্রলীগ। তৎকালীন তরুণ নেতা হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি, বাংলাদেশের স্থপতি, জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রেরণায় ও পৃষ্ঠপোষকতায় এক ঝাঁক সূর্য বিজয়ী স্বাধীনতাপ্রেমী তারুণ্যের উদ্যোগে প্রতিষ্ঠিত হয় এশিয়া মহাদেশের বৃহত্তম ছাত্র সংগঠন বাংলাদেশ ছাত্রলীগ। বঙ্গবন্ধুর হাত ধরে ওই দিন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফজলুল হক হলে আনুষ্ঠানিকভাবে ছাত্রলীগের যাত্রা শুরু। সংগঠনটির প্রথম আহবায়ক ছিলেন নাঈমউদ্দিন আহমেদ। ছাত্রলীগ সাংগঠনিক ভাবে কার্যক্রম শুরু করলে এর সভাপতি মনোনিত হন দবিরুল ইসলাম ও সাধারণ সম্পাদক মনোনিত হন খালেক নেওয়াজ খান।

ছাত্রলীগ প্রতিষ্ঠার এক বছর পর ১৯৪৯ সালে এই ছাত্র সংগঠনটির হাত ধরেই তৎকালীন পাকিস্তানের প্রথম বিরোধী দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ ঘটে ‘আওয়ামী মুসলিম লীগের’। যা পরে আওয়ামী লীগ নাম ধারণ করে এ দেশের স্বাধিকার ও স্বাধীনতা সংগ্রামে নেতৃত্ব দেয়। তৎকালিন সরকারের শাসন শোষন আর বঞ্চনার প্রেক্ষাপটে ছাত্রলীগ প্রতিষ্ঠা ছিল বাঙালি জাতির ইতিহাসে বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। জন্মের পর থেকে ইতিহাসের বাঁকে বাঁকে বিভিন্ন পর্যায়ে জাতিকে নেতৃত্ব দেওয়া সংগঠনটির নেতাকর্মীরা জাতীয় রাজনীতিতেও নেতৃত্ব দিয়েছেন। বাংলাদেশ ছাত্রলীগের ৭২ বছরের ইতিহাস জাতির মুক্তির স্বপ্ন, সাধনা এবং সংগ্রামকে বাস্তবে রূপদানের ইতিহাস।

বাংলাদেশের বহু বরেণ্য রাজনৈতিক ব্যক্তি যারা বিভিন্ন প্রগতিশীল রাজনৈতিক দলের হয়ে দেশের জন্য কাজ করেন, তাদের অনেকেরই রাজনৈতিক সূতিকাগার ছিল বঙ্গবন্ধুর গড়া এই সংগঠন ছাত্রলীগ। আজ শিক্ষা, শান্তি আর প্রগতির তিন তারকা খচিত গৌরবের পতাকা কাঁধে নিয়ে শিক্ষাঙ্গনকে জঙ্গিমুক্ত করে শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ অব্যাহত রেখেছে ছাত্রলীগ। দেশের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে যেখানেই ছাত্র-ছাত্রীদের অধিকারের প্রশ্ন, সেখানেই অগ্রভাগে থেকে নেতৃত্ব দিচ্ছে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। আমাদের হাতেই গড়ব শেখ হাসিনার ডিজিটাল সোনার বাংলা। বাংলাদেশ ছাত্রলীগের ৭২তম জন্মদিনে সবাইকে শুভেচ্ছা।

চিরদিন প্রজ্জ্বলিত থাকুক শিক্ষা শান্তি প্রগতির আলোকবর্তিকা। উড্ডীয়মান থাকুক এর বিজয় নিশান। জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু

Share with Others

শেয়ার করুন:

Share on facebook
Share on twitter
Share on linkedin
Share on pinterest
Share on whatsapp
Share on email
Share on print

আরও পড়ুন:

বিশ্বজুড়ে করোনাভাইরাস

বাংলাদেশে

আক্রান্ত
১৭৮,৪৪৩
সুস্থ
৮৬,৪০৬
মৃত্যু
২,২৭৫

বিশ্বে

আক্রান্ত
৩৪,৪১২,৫৬৩
সুস্থ
২৫,৬০০,৬৫৬
মৃত্যু
১,০২২,৮৩৩

আর্কাইভ

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০১১১২
১৩১৪১৫১৬১৭১৮১৯
২০২১২২২৩২৪২৫২৬
২৭২৮২৯৩০৩১