বুধবার, ২১শে শ্রাবণ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ
৫ই আগস্ট, ২০২০ ইং
১৪ই জিলহজ্জ, ১৪৪১ হিজরী
ads

নূরকে ও তার সহযোগীদের ওপর হামলায় উত্তাল ক্যাম্পাস

দেশটুডে২৪ নিউজ: ডাকসু ভবনে ভিপি নুরুল হক নূরসহ কয়েকজনের ওপর হামলার ঘটনায় মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চের দুই নেতাকে গতকাল আটক করেছে গোয়েন্দা পুলিশ। এরা হলেন, মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক আল মামুন এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সাধারণ সম্পাদক ইয়াসির আরাফাত তূর্য। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশের পর তাদের আটক করা হয়। হামলায় ছাত্রলীগের সম্পৃক্ততা অস্বীকার করেছেন ছাত্রলীগ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সাধারণ সম্পাদক ও ডাকসুর এজিএস সাদ্দাম হোসেন। অবশ্য ছাত্রলীগ থেকে চাঁদাবাজির অভিযোগে অব্যাহতি পাওয়া একজন নেতার ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

তার অতি উৎসাহী ভূমিকা ও কর্মকা  সরকারকে বিব্রত করার কোনো চক্রান্ত কিনা সে বিষয়ে তদন্ত করে দেখা প্রয়োজন বলে মনে করছেন বিশ্ববিদ্যালয় সংশ্লিষ্টরা। এদিকে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ভিপি নূরসহ আহত সবার শারীরিক অবস্থা উন্নতির দিকে। ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে তাদের দেখতে গিয়ে তোপের মুখে পড়েছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য মো. আখতারুজ্জামান। গতকাল প্রতিবাদে উত্তাল থাকা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রক্টরের কার্যালয় অবরোধ করে শিক্ষার্থীরা। সন্ত্রাসবিরোধী ছাত্র ঐক্যের ব্যানারে কয়েকশ শিক্ষার্থীর অংশগ্রহণে মিছিল ও বিক্ষোভ হয়েছে ক্যাম্পাসে। হামলার সময়ে সিসিটিভি ফুটেজ গায়েব হওয়ায় তা প্রকাশ করার দাবি উঠেছে আন্দোলনকারীদের পক্ষ থেকে।

রবিবার দুপুরে মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চের একটি সংগঠনের ব্যানারে কর্মসূচির পর ডাকসু ভবনে নূরদের ওপর হামলা হয়। ছাত্রলীগের একদল নেতা-কর্মীকেও সেই হামলায় দেখা যায়। মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চ ও ছাত্রলীগ নেতা-কর্মীরা লাঠিসোঁটা নিয়ে ভিপি নূরের কক্ষে ঢুকে বাতি নিভিয়ে সেখানে থাকা সবাইকে এলোপাতাড়ি পেটান। হামলায় আহত নূরসহ ২৮ জনকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। এর মধ্যে বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের নেতা তুহিন ফারাবী গতকাল রাতে লাইফ সাপোর্টে ছিলেন। তাঁর অবস্থার উন্নতি হওয়ায় সোমবার লাইফ সাপোর্ট খুলে তাঁকে নিউরোলজি ওয়ার্ডে নেওয়া হয়। এখন নূর, ফারাবীসহ মোট পাঁচজন হাসপাতালে ভর্তি আছেন। ওই হামলার সঙ্গে যারাই জড়িত থাক না কেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তাদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দিয়েছেন বলে গতকাল সচিবালয়ে সাংবাদিকদের জানান আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। তিনি বলেন, ভিন্ন মত প্রকাশের অধিকার সবার রয়েছে, ডাকসুর ভিপি আমাদের সমালোচনা করতে পারে, সরকারের সমালোচনা করার অধিকার তার আছে। এখানে অন্য যে বহিরাগতরা আসে এসব কথা অনেকে বলে, যত কিছুই হোক, যে হামলা হয়েছে এটা নিন্দনীয় ঘটনা, আমি এটার নিন্দা করি। গোয়েন্দা পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার আবদুল বাতেন জানান, হামলার ঘটনায় মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চের দুই নেতাকে আটক করা হলেও সোমবার সন্ধ্যা পর্যন্ত কোনো মামলা হয়নি। আটক হওয়াদের মধ্যে আল মামুন ছাত্রলীগের গত কমিটিতে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক উপসম্পাদক পদে ছিলেন। আর তূর্য ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের বর্তমান সাংগঠনিক সম্পাদক।

পাঁচজনের অবস্থার উন্নতি : ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) সহসভাপতি (ভিপি) নুরুল হক নূরসহ পাঁচজনের অবস্থার উন্নতি হয়েছে। তারা সবাই কেবিনে ভর্তি আছেন। তারা ক্রমেই ভালো হয়ে উঠছেন। নূরসহ ভর্তি অন্যরা হলেন- আমিনুর, এপিএম সোহেল, তুহিন ফারাবী ও ফারুক হোসেন। গতকাল ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল (ঢামেক) হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসকরা এসব বিষয় জানিয়েছেন। ঢামেক হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এ কে এম নাসির উদ্দিন জানান, বর্তমানে ঢামেক হাসপাতালে নূরসহ পাঁচজন ভর্তি রয়েছেন। এদের সবারই শারীরিক অবস্থা অনেকটা ভালো। আমাদের চিকিৎসকরা সব ধরনের চিকিৎসা সেবা দিচ্ছে। গত রবিবার ফারাবীর শ্বাসপ্রশ্বাসের সমস্যা ছিল বলে তাকে সাপোর্টে দেওয়া হয়েছিল। এখন সে আগের চেয়ে অনেক ভালোভাবে শ্বাস নিতে পারছেন। গতকাল সকালে তুহিন ফারাবীর লাইফ সাপোর্ট থেকে ওয়ার্ডে স্থানান্তর করা হয়েছিল। তবে সবাই কেবিনে আছে সে কারণে তাকেও কেবিনে হন্তান্তর করা হবে। গত রবিবার রাত ১০টার দিকে তুহিন ফারাবীকে লাইফ সাপোর্টে নেওয়া হয়। তার গ্রামের বাড়ি নোয়াখালীর সোনাইমুড়িতে। বর্তমানে তিনি চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্সি বিষয়ে পড়াশোনা করছেন। একই সঙ্গে তিনি বাংলাদেশ ছাত্র অধিকার পরিষদের- সম্মিলিত বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় শাখার কেন্দ্রীয় কমিটির আহ্বায়ক এবং কোটা সংস্কার আন্দোলনের কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম-আহ্বায়ক।

উত্তাল বিশ্ববিদ্যালয় : ডাকসু ভিপি নুরুল হক নূর ও তার সহযোগীদের ওপর হামলায় জড়িতদের আইনের আওতায় এনে কঠোর শাস্তি দেওয়ার দাবিতে উত্তাল ছিল বিশ্ববিদ্যালয়। সন্ত্রাসবিরোধী ছাত্র ঐক্যের ব্যানারে গতকাল দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে আয়োজিত বিক্ষোভ সমাবেশ থেকে জড়িতদের বহিষ্কারেরও দাবি জানানো হয়। তিন শতাধিক শিক্ষার্থীর অংশগ্রহণে এ সমাবেশে ডাকসুর সমাজসেবা সম্পাদক আকতার হোসেন বলেন, সনজিত-সাদ্দামের নেতৃত্বে যে হামলা হয়েছে, তাদের সবাইকে আইনের আওতায় এনে কঠোর শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে। এ ছাড়া বিশ্ববিদ্যালয় থেকেও তাদের বহিষ্কার করতে হবে। এই হামলার সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষেরও মদদ রয়েছে। এর দায় তারা এড়াতে পারে না। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনও এই হামলার সঙ্গে জড়িত। আকতার বলেন, হামলাকারীদের সিসিটিভি ক্যামেরা ফুটেজে আছে। অতিসত্বর সেই ফুটেজ প্রকাশ করতে হবে। যদি প্রকাশ করা না হয়, সেক্ষেত্রে প্রশাসনের লেজুড়বৃত্তি আরেকবার প্রস্ফুটিত হবে। যে প্রক্টর ব্যবস্থা নিতে পারেনি তাকে পদত্যাগ করতে হবে। আর কোনো আবরারের লাশ আমরা দেখতে চাই না। সমাবেশে ছাত্র ফেডারেশনের সভাপতি জাহিদ সুজন বলেন, বুয়েটের আবরারের রক্ত শুকায়নি। রবিবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ডাকসুর ছাদ থেকে হত্যার উদ্দেশ্যে দুজনকে ফেলে দেওয়া হয়। এসবের পরও এখনো কোনো ব্যবস্থা নেয়নি প্রশাসন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন লেজুড়বৃত্তি প্রশাসন। আমরা এ প্রশাসনের পদত্যাগ চাই। সমাবেশে সংহতি জানিয়ে গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়ক জোনায়েদ সাকি বলেন, ভিপি নূর এবং তার সঙ্গীদের ওপর হামলা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের প্রত্যক্ষ মদদে করা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন থাকতে কী করে ডাকসু ভবনের ভিতরে এই হিংস্র হামলা হয়। প্রক্টর যে মন্তব্যগুলো করেছেন, তাতে মনে হচ্ছে, এই হামলায় তার সমর্থন আছে। পরে রাজু ভাস্কর্য থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করা হয়। মিছিলটি ক্যাম্পাসের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে। মধুর ক্যান্টিন হয়ে প্রক্টর কার্যালয়ের সামনে গিয়ে কিছুক্ষণ অবস্থান নেয়। মিছিলে স্লোগান ছিল, ‘নির্লজ্জ প্রক্টর, ধিক্কার ধিক্কার’, ‘ছাত্রলীগের কালো হাত ভেঙে দাও, ‘সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে ডাইরেক্ট অ্যাকশন, ‘শিক্ষা ছাত্রলীগ একসঙ্গে চলে না’। ঘোষিত কর্মসূচি অনুসারে মঙ্গলবার বিকাল ৩টায় রাজু ভাস্কর্যে ছাত্র-জনতার সমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে। দাবি মানা না হলে সারা দেশে কঠোর আন্দোলন গড়ে তোলারও হুমকি দেন শিক্ষার্থীরা।

তোপের মুখে উপাচার্য : রবিবার রাতে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আহত ভিপি নূরকে দেখতে গিয়ে শিক্ষার্থীদের তোপের মুখে পড়েন উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আখতারুজ্জামান। এ সময় তার সঙ্গে ছিলেন অধ্যাপক ড. এ কে এম গোলাম রব্বানী। ভিপির সঙ্গে দেখা করতে প্রথমে উপাচার্যকে বাধা দেন শিক্ষার্থীরা। এ সময় তারা উপাচার্য ও প্রক্টরকে ‘দালাল’ আখ্যা দিয়ে তাদের পদত্যাগের দাবিতে স্লোগান দিতে থাকেন। একটি ভিডিও ক্লিপে হাসপাতালে ভিপি নূরের শয্যাপাশে দাঁড়ানো অবস্থায় উপাচার্য ও প্রক্টরকে কথা বলতে দেখা গেছে। যেখানে উপাচার্যের উদ্দেশ্যে এক শিক্ষার্থীকে ‘আপনারা শিক্ষকতার সম্মানকে ধূলিসাৎ করেছেন। সরকার ও ছাত্রলীগের পক্ষে আর কত দালালি করবেন। দায়িত্ব না নিতে পারলে পদ ছেড়ে দিন’ বলতে শোনা যায়। নূরের স্বাস্থ্যের অবস্থা জানতে গিয়ে উপাচার্য বলেন, আমি জেনেছি, তোমাকে আটকে রেখে ওরা একটা লাশ চেয়েছিল। তুমি বোধহয় ষড়যন্ত্রের শিকার হয়ে যাচ্ছ।’ পরে ভিপি নূরকে দেখে হাসপাতাল ত্যাগ করার সময় উপাচার্য ও প্রক্টরকে ‘দালাল ভিসি’ ও ‘দালাল প্রক্টর’ বলে স্লোগন দেন শিক্ষার্থীরা।

ব্যবস্থা নিতে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ : প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ডাকসু ভবনে ভিপি নুরুল হক নূরসহ তার সঙ্গীদের ওপর হামলার ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দিয়েছেন বলে জানিয়েছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। গতকাল সচিবালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, নেত্রী সুস্পষ্ট করে বলে দিয়েছেন, এ ঘটনার সঙ্গে যারা জড়িত তারা যদি দলীয় পরিচয়ের কেউও হয়, তাদের বিরুদ্ধে অবশ্যই শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া এবং প্রশাসনিকভাবে আইন প্রয়োগকারী সংস্থাকেও বলা হয়েছে।

ছাত্রলীগের দায় অস্বীকার : ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) ভিপি নুরুল হক নূর ও তার সহযোগীদের ওপর হামলায় ছাত্রলীগ জড়িত নয় বলে দাবি করেছেন বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ও ডাকসুর এজিএস সাদ্দাম হোসেন। এতে কারণ ছাড়াই ছাত্রলীগকে জড়ানো হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেছেন তিনি। গতকাল দুপুরে মধুর ক্যান্টিনের সামনে সাংবাদিকদের সাদ্দাম হোসেন বলেন, কয়েকদিন আগে নূরের দুর্নীতির যে অডিও ফাঁস হয়েছে, সেটি ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করতে এ ঘটনা ঘটানো হয়েছে। নূর, বহিরাগত এবং মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চ মিলে এ ঘটনা ঘটিয়েছে। এর সঙ্গে ছাত্রলীগ কোনোভাবেই জড়িত নয়। তবে হামলার ঘটনাকে অনাকাক্সিক্ষত বলেও উল্লেখ করেন সাদ্দাম। এ সময় গণমাধ্যমের সমালোচনা করে সাদ্দাম হোসেন বলেন, অতীতেও মিডিয়া ট্রায়ালের মাধ্যমে ছাত্রলীগকে জড়ানো হয়েছে। এবারও সেটি করেছে। গণমাধ্যমের এই মিথ্যাচার সাধারণ ছাত্ররা বিশ্বাস করে না।

বিশ্ববিদ্যালয়ের তদন্ত কমিটি : নূরের ওপর হামলার ঘটনায় ছয় সদস্য বিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করেছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। গতকাল বিশ্ববিদ্যালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, রবিবার আনুমানিক বেলা সাড়ে ১২টার সময় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ডাকসু ভবন ও মধুর ক্যান্টিন এলাকায় এক অনাকাক্সিক্ষত ও দুঃখজনক ঘটনা ঘটে। এই ঘটনাটি কেন ও কীভাবে সংঘটিত হলো এবং এর সঙ্গে কারা জড়িত, তা সুষ্ঠুভাবে তদন্ত করার জন্য কলা অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. আবু মো. দেলোয়ার হোসেনকে আহ্বায়ক করে ছয় সদস্যবিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।

আহতদের চিকিৎসায় মেডিকেল বোর্ড : ডাকসু ভিপি নুরুল হক নূর ও অন্য আহতদের চিকিৎসায় ৯ সদস্যের মেডিকেল বোর্ড গঠন করেছে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। গতকাল সন্ধ্যায় এই বোর্ড গঠন করা হয়। তাদের উন্নত চিকিৎসার জন্য নিউরো সার্জারি বিভাগের অধ্যাপক ডা. মো. রাজিউল হককে প্রধান করে ৯ সদস্যবিশিষ্ট বোর্ড গঠন করা হয়েছে। গতকাল এ বোর্ড গঠন করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন ঢামেক হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এ কে এম নাসির উদ্দিন। তিনি আরও জানান, আগামীকাল (আজ) ১০টায় এই বোর্ডের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী আহতদের চিকিৎসার জন্য বোর্ড বসবে। বোর্ডের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী আহতদের উন্নত চিকিৎসা দেওয়া হবে।

বিচার দাবি ঢাবি শিক্ষক সমিতির : ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) ভবনে ভিপি নুরুল হক নূরের ওপর হামলাকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও সন্ত্রাসী হামলা বলে উল্লেখ করেছে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি। এ ঘটনায় জড়িতদের বিচার ও শাস্তির দাবি জানিয়েছেন তারা। গতকাল সন্ধ্যায় গণমাধ্যমকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই দাবি জানানো হয়। সভাপতি অধ্যাপক ড. এ এস এম মাকসুদ কামাল এবং সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ড. শিবলী রুবাইয়াতুল ইসলাম স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ‘তথাকথিত মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চের এই হামলা উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এবং বিশ্ববিদ্যালয়কে অশান্ত করার অপপ্রয়াস। ঢাবি শিক্ষক সমিতি এ ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছে।’

রংপুরে প্রতিবাদ সমাবেশে হামলা : ডাকসু ভিপির ওপর হামলার প্রতিবাদে ও মুক্তিযোদ্ধা মঞ্চকে নিষিদ্ধ করে তাদের গ্রেফতারের দাবিতে রংপুরে ছাত্র অধিকার আন্দোলনের প্রতিবাদ সমাবেশে হামলা চালিয়েছে যুবলীগ ও ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা। হামলায় পাঁচজন আহত হয়েছেন। এ সময় তারা তাদের ব্যানার ও ফেস্টুন ছিনিয়ে নিয়ে তাদের সমাবেশ প  করে দিয়েছে। গতকাল দুপুরে রংপুর প্রেস ক্লাবের সামনে এ ঘটনা ঘটে।

দেশের বিভিন্ন স্থানে বিক্ষোভ : ডাকসু ভিপি নুরুল হক নূরসহ সাধারণ শিক্ষার্থীদের ওপর ছাত্রলীগের হামলার প্রতিবাদে ও সন্ত্রাসীদের দ্রুত গ্রেফতারের দাবিতে বরিশাল বিএম কলেজে বিক্ষোভ মিছিল এবং মানববন্ধন করেছে ‘বাংলাদেশ ছাত্র অধিকার পরিষদ’ নামে একটি সংগঠন। গতকাল বেলা ১২টায় সংগঠনের বিএম কলেজ শাখার উদ্যোগে ক্যাম্পাসের কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার চত্বর থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের হয়। মিছিলকারীরা ‘একাত্তরের হাতিয়ার, গর্জে ওঠো আরেক বার, লেগেছে রে লেগেছে রক্তে আগুন লেগেছে, ছাত্র সমাজ এক হও, নুরুর ওপর হামলা কেন প্রশাসন জবাব চাই’ স্লোগান দেয়। মিছিলটি ক্যাম্পাসের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে কলেজের সামনের সড়কে গিয়ে শেষ হয়। পরে একই দাবিতে সেখানে মানববন্ধন করেন তারা। নূরের ওপর হামলার প্রতিবাদে ময়মনসিংহে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল করেছে ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের জেলা ও মহানগর শাখার নেতা-কর্মীরা। গতকাল বিকালে ময়মনসিংহ প্রেস ক্লাবের সামনে ঘণ্টাব্যাপী মানববন্ধন করে তারা। মানববন্ধন শেষে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের হয়ে গাঙ্গিনারপাড় মোড় ঘুরে নতুন বাজার মোড়ে গিয়ে শেষ হয়। নোয়াখালীতেও মানববন্ধন-সমাবেশ হয়েছে।

বর্বরতায় হতবাক সাবেক ডাকসুর ভিপি-জিএস : ডাকসুর সাবেক ভিপি মাহমুদুর রহমান মান্না বলেছেন, এই রকম বর্বরতা আমি আমার ছাত্ররাজনীতিতে দেখিনি। বাংলাদেশ আমলে কবে দেখলাম তাই ভাবছি, পাকিস্তান আমলেও দেখিনি। এইরকমভাবে বেধড়ক পেটানো মৃত্যু সমতুল্য। এর নিন্দা জানানোর ভাষা আমার নেই। তিনি বলেন, ডাকসু ভিপি মানে তো সরকারের প্রতিপক্ষ হয়ে গেছে এমন তো না। আগে তো ছাত্রলীগ পেটাত, এখন নতুন সাইনবোর্ড মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চে সেটা করা হলো। এটা খুব দুঃখজনক। মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চের বিশ্ববিদ্যালয়ে কেন প্রশ্ন রেখে মান্না বলেন, ‘মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চের বিশ্ববিদ্যালয়ে কী কাজ? তাদের ডাকসুর ভিপির বিরুদ্ধে যেতে হবে কেন? এইগুলো তো আমি বুঝতে পারছি না। এই ধরনের ঘটনা যেন আর না ঘটতে পারে সে জন্য ছাত্র জনতাকে এটা প্রতিরোধ করা দরকার বলে মনে করেন সাবেক এই ছাত্রনেতা। সাবেক ডাকসুর ছাত্রনেতা ও ভিপি আমান উল্লাহ আমান ভিপি নুরুল হকের ওপর হামলার ঘটনাকে তার স্পষ্টভাষিতা বা সত্য বলার সাহসিকতার জন্য হচ্ছে মন্তব্য করে এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন। আমান বলেন, যে গণতন্ত্রের জন্য আমরা লড়াই করেছি, সংগ্রাম করেছি সেই গণতন্ত্র এখন অবরুদ্ধ বা বন্দী। যারাই এই বন্দী গণতন্ত্রকে মুক্ত করার জন্য কথা বলছে বা আন্দোলন করছে তাদের ওপরই আঘাত আসছে। এই ঘটনায় সরকারের সমালোচনা করে ছাত্রনেতা আমান উল্লাহ আমান বলেন, সরকার যদি এই ধরনের ঘটনা না করিয়ে থাকে তাহলে তো সরকার তাদের গ্রেফতার করত বা মামলা দিত।কিন্তু সরকার তো তাদের গ্রেফতার বা মামলা দিচ্ছে না। আমি এটার নিন্দা জানাই।

শেয়ার করুন:

Share on facebook
Share on twitter
Share on linkedin
Share on pinterest
Share on whatsapp
Share on email
Share on print

আরও পড়ুন:

বিশ্বজুড়ে করোনাভাইরাস

বাংলাদেশে

আক্রান্ত
১৭৮,৪৪৩
সুস্থ
৮৬,৪০৬
মৃত্যু
২,২৭৫

বিশ্বে

আক্রান্ত
১৮,৭০০,৮৩৩
সুস্থ
১১,৯১৫,২২৩
মৃত্যু
৭০৪,৩৪৭

আর্কাইভ

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০১১১২১৩১৪১৫
১৬১৭১৮১৯২০২১২২
২৩২৪২৫২৬২৭২৮২৯
৩০৩১