বুধবার, ২৮শে শ্রাবণ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ
১২ই আগস্ট, ২০২০ ইং
২১শে জিলহজ্জ, ১৪৪১ হিজরী
ads

যোগ্যতা ধরে রাখতে ব্যর্থ হলে এমপিও বাতিল: প্রধানমন্ত্রী

প্রায় সাড়ে ৯ বছর পর সরকার ২ হাজার ৭৩০টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্ত করেছে। বুধবার এমপিওভুক্তির এ ঘোষণা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তার টানা তিন সরকারের আমলে এটি দ্বিতীয়বারের মতো বড় আকারের এমপিওভুক্তি; যা দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে বেশিসংখ্যক প্রতিষ্ঠানকে একসঙ্গে এমপিওভুক্ত করার রেকর্ড। এর আগে ২০১০ সালে একসঙ্গে ১ হাজার ৬২৬টি প্রতিষ্ঠানকে একসঙ্গে এমপিও দেয়া হয়।

এমপিওভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের নাম ঘোষণা উপলক্ষে শিক্ষা মন্ত্রণালয় এদিন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকারি বাসভবন গণভবনে একটি অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। এতে বক্তৃতাকালে নতুন এমপিওভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে এসংক্রান্ত নীতিমালা যথাযথভাবে মেনে চলার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।

তিনি বলেন, আপনারা নীতিমালা অনুযায়ী সব নির্দেশনা পূর্ণ করতে পেরেছেন বলে এমপিওভুক্ত হয়েছেন। কাজেই এটা ধরে রাখতে হবে। কেউ যদি এটা ধরে রাখতে ব্যর্থ হয়, সঙ্গে সঙ্গে তার এমপিওভুক্তি বাতিল হবে। কারণ এমপিওভুক্তি হয়ে গেছে- বেতন তো পাবই, ক্লাস করানোর দরকার কী, পড়ানোর দরকার কী- এ চিন্তা করলে কিন্তু চলবে না।

এমপিওভুক্তি বুধবার ঘোষণা করা হলেও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-কর্মচারীরা জুলাই থেকেই এর সুবিধা পাবেন বলে ইতিমধ্যেই ঘোষণা দিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি। ২ হাজার ৭৩০টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মধ্যে স্কুল ও কলেজ ১ হাজার ৬৫১টি আর বিভিন্ন ধরনের কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং মাদ্রাসা ১ হাজার ৭৯টি।

নতুন এ এমপিওভুক্তির কারণে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের দুই বিভাগে ৮৮১ কোটি টাকা ব্যয় বেড়েছে। এর মধ্যে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগে প্রায় ৪৫১ কোটি এবং কারিগরি ও মাদ্রাসা বিভাগে ৪৩০ কোটি টাকা ব্যয় বাড়ল। বর্তমানে এমপিওভুক্ত ২৮ হাজার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে প্রায় ১০ হাজার কোটি টাকা বছরে ব্যয় হয়ে থাকে বলে জানা গেছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমাদের নীতিমালায় যে নির্দেশনাগুলো রয়েছে, যারা সেই নির্দেশনাগুলো পূরণ করতে পারবেন এবং সেই স্কুলগুলো যেগুলোর আসলে প্রয়োজন আছে সেটা বিবেচনা করেই আমরা এমপিওভুক্ত করব। কাজেই যারাই এমপিওভুক্তি চান তাদের এ নির্দেশনা মানতে হবে।

শেখ হাসিনা বলেন, সবাইকে মনে রাখতে হবে আমরা করে দিচ্ছি ঠিকই কিন্তু ওই নীতিমালাগুলো পূর্ণ করতে হবে এবং সেটা অব্যাহত রাখতে হবে। যদি এমপিওভুক্তির এ সুযোগটাকে অব্যাহত রাখতে চান।

শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি অনুষ্ঠানে বক্তৃতা করেন। শিক্ষা উপমন্ত্রী ব্যারিস্টার মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন। মাধ্যমিক এবং উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বিভাগের সিনিয়র সচিব মো. সোহরাব হোসেইন অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন। শিক্ষা মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সদস্যরা এ সময় উপস্থিত ছিলেন।

এমপিওভুক্তির বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সব মন্ত্রণালয়ের প্রতি ধন্যবাদ এবং এমপিওভুক্ত নতুন প্রতিষ্ঠানগুলোকে অভিনন্দন জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এটা দীর্ঘদিনের একটা চাহিদা ছিল। আমরা এ নিয়ে অনেক দিন থেকেই কাজ করছি। সবাই মিলে কাজ করে এটা তালিকাভুক্ত করে আজ এমপিওভুক্তির ঘোষণা দিতে পারলাম।

১৯৯৬ সালে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে এমপিওভুক্তি নিয়ে বিভিন্ন অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরতে গিয়ে তিনি বলেন, আগে যারা এমপিওভুক্ত ছিল তাদের বেতনের টাকাটা সরাসরি ওই প্রতিষ্ঠানে চলে যেত। যার ফলে অনেক সময় তাদের কাছ থেকে একটা নালিশ আসত যে তারা ঠিকমতো বেতন পান না। তিনি বলেন, তখন আমরা ঠিক করি যে, যার যার বেতন তার তার কাছে সরাসরি চলে যাবে এবং প্রতি মাসে একটা পেমেন্ট অর্ডারের মাধ্যমে যার নামে তার টাকার চেক পৌঁছে যাবে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, এটা করে একটা সুবিধা হল যে দেখা গেল প্রায় ৬০ হাজার ভুয়া শিক্ষক ছিল, যাদের নামে টাকা যেত। যখন আমরা প্রতিজনের নামে মাসিক পে-অর্ডারের মাধ্যমে টাকা পাঠাতে শুরু করলাম তখন এ ৬০ হাজার শিক্ষকের আর কোনো খোঁজ পাওয়া গেল না।

‘যত্রতত্র শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান গড়ে উঠলে শিক্ষার সঠিক মানটা আর বজায় থাকে না’, উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, প্রচণ্ড একটা দাবি ছিল এমপিওভুক্তকরণের, আর এজন্য শিক্ষকরা আন্দোলনও করেছেন। তখন আমরা বলেছি আমরা সবই করব। কিন্তু একটা নীতিমালার ভিত্তিতে করব।

তিনি বলেন, শিক্ষাকে যথেষ্ট গুরুত্ব দেয় বলেই একে একটি নীতিমালার ভিত্তিতে করতে চেয়েছে সরকার। যাতে মানসম্পন্ন শিক্ষা নিশ্চিত করা সম্ভব হয়। তবে, এ নীতিমালা ঠিক করে একে যাচাই-বাছাই করে তালিকাটা করতে একটু সময় লেগে যায়।

তিনি বলেন, তার সরকার হাজার হাজার কোটি টাকা ব্যয় করছে, দেশের বাজেট বৃদ্ধি করে শিক্ষা খাতে সর্বাধিক ব্যয় বরাদ্দ করেছে, যাতে করে শিক্ষাকে আধুনিক এবং বিজ্ঞানসম্মত করে যুগের চাহিদা মোতাবেক প্রযুক্তিনির্ভর করে তোলা যায়।

কোন ধরনের কতটি প্রতিষ্ঠান : ২ হাজার ৭৩০টি এমপিওভুক্ত প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ৪৩৯টি নিু মাধ্যমিক (ষষ্ঠ থেকে অষ্টম শ্রেণি) বিদ্যালয়, মাধ্যমিক বিদ্যালয় (ষষ্ঠ থেকে দশম শ্রেণি) ১০৮টি, মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের নবম ও দশম শ্রেণি স্তরের প্রতিষ্ঠান ৮৮৭টি, ৯৩টি কলেজ, উচ্চমাধ্যমিক বিদ্যালয় ৬৮টি, কলেজ (একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণি) ৯৩টি এবং ডিগ্রি কলেজ ৫৬টি।

এ ছাড়া কারিগরি ও মাদ্রাসা বিভাগের অধীন মাদ্রাসা রয়েছে ৫৫৭টি। এর মধ্যে দাখিল স্তরের মাদ্রাসা ৩৫৮টি, আলিম স্তরের ১২৮টি, ফাজিল স্তরের ৪২টি ও কামিল স্তরের ২৯টি মাদ্রাসা রয়েছে। কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ৫২২টি। এর মধ্যে কৃষি ৬২টি, ভোকেশনাল (স্বতন্ত্র) ৪৮টি, ভোকেশনাল (হাইস্কুল সংযুক্ত) ১২৯টি, বিএম (স্বতন্ত্র) ১৭৫টি এবং বিএম (কলেজের সঙ্গে যুক্ত) ১০৮টি।

এমপিওভুক্তিতে চার শর্ত : নতুন এমপিওভুক্তদের চারটি শর্ত দেয়া হয়েছে। এগুলো হচ্ছে- এমপিও নীতিমালা ও জনবল কাঠামো-২০১৮ অনুযায়ী আরোপিত শর্ত পূরণ করতে হবে। সংশ্লিষ্ট শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-কর্মচারীদের যোগ্যতা/অভিজ্ঞতা নিয়োগকালীন বিধি-বিধান ও সংশ্লিষ্ট পরিপত্র মোতাবেক প্রযোজ্য হবে।

নিবন্ধন প্রথা চালু হওয়ার আগে বিধিসম্মতভাবে নিয়োগপ্রাপ্ত শিক্ষক ও কর্মচারীরা এমপিওভুক্তির সুযোগ পাবেন। কিন্তু পরে নিয়োগপ্রাপ্তদের অবশ্যই নিবন্ধন সনদ লাগবে। যেসব প্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্তির জন্য বিবেচিত হয়েছে তার মধ্যে কোনো প্রতিষ্ঠান নীতিমালা অনুযায়ী কাম্য যোগ্যতা বজায় রাখতে ব্যর্থ হলে, সেসব প্রতিষ্ঠানের এমপিও স্থগিত করা হবে এবং পরে কাম্য যোগ্যতা অর্জন করলে এমপিও ফের অবমুক্ত করার বিষয়টি বিবেচনা হবে।

যেসব তথ্যাদির আলোকে প্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্ত করা হয়েছে, পরে কোনো তথ্য ভুল বা অসত্য প্রমাণিত হলে তথ্য সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে। প্রদানকৃত তথ্যের সঠিকতা সাপেক্ষে প্রতিষ্ঠানের অনুকূলে এমপিওভুক্তির আদেশ কার্যকর করা হবে।

বিমান উড্ডয়ন ও রক্ষণাবেক্ষণে যত্নবান হতে হবে -প্রধানমন্ত্রী : বাসস জানায়, সকালে রাজধানীর প্যানপ্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলে ৩ দিনব্যাপী ৬ষ্ঠ ‘আন্তর্জাতিক ফ্লাইট সেফটি’ সেমিনারের সমাপনী অধিবেশনে প্রধান অতিথির ভাষণ দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

এ সময় বিমান উড্ডয়নকে একটি উচ্চতর কারিগরি পেশা হিসেবে আখ্যায়িত করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নিরাপদ উড্ডয়ন এবং এয়ারক্রাফটের রক্ষণাবেক্ষণে যত্নবান হওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট সবার প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, জনগণের কষ্টার্জিত অর্থের বিনিময়ে সংগৃহীত এ মূল্যবান বিমানের নিরাপদ উড্ডয়ন ও রক্ষণাবেক্ষণে সবাইকে যত্নবান হতে হবে। বিমান উড্ডয়নে পেশাগত দক্ষতার গুরুত্ব সবচেয়ে বেশি উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, এ দক্ষতা একদিকে যেমন আত্মবিশ্বাস বৃদ্ধি করে, তেমনি সংশ্লিষ্ট সংস্থার জন্যেও বয়ে আনে সুনাম ও মর্যাদা।

তিনি বলেন, আমাদের সরকার এভিয়েশন সেক্টরের মান উন্নয়নের জন্য বিশেষ কার্যক্রম বাস্তবায়ন করে যাচ্ছে। ফলে এ অঞ্চলে আমাদের বিমান বাহিনী ও বেসামরিক বিমানের ফ্লাইট সেফটি রেকর্ড অত্যন্ত সন্তোষজনক।

বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স সম্প্রতি নিরাপদ উড্ডয়নের মানদণ্ডে পাঁচ তারকার আন্তর্জাতিক মান অর্জন করেছে। আন্তর্জাতিক এভিয়েশন সেফটি অ্যাসেসমেন্ট প্রোগ্রামের আওতায় যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল এভিয়েশন অথোরিটির টেকনিক্যাল রিভিউয়ে ক্যাটাগরি-১ ঘোষণা এখন সময়ের ব্যাপার মাত্র, বলেন প্রধানমন্ত্রী।

বাংলাদেশ বিমানবাহিনী ও বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের যৌথ ব্যবস্থাপনায় আয়োজিত এ সেমিনারের এবারের প্রতিপাদ্য ছিল ‘টিম এফোর্ট ক্যান ইনশিউর টিম সেফটি।’ যুক্তরাষ্ট্র, ইতালি, চীন, মালয়েশিয়া, ভারত, তুরস্ক, ইন্দোনেশিয়ার, শ্রীলংকা, মালদ্বীপ, ফিলিপাইন, সৌদি আরব, মিসর, ওমান, মরক্কো, নাইজেরিয়া, জিম্বাবুয়ে এবং বাংলাদেশসহ চারটি মহাদেশের ১৬টি দেশের বিমানবাহিনীর সদস্য ও আন্তর্জাতিক সিভিল এভিয়েশন অথরিটির (আইসিএও) প্রতিনিধিরা সেমিনারে অংশ নেন।

অনুষ্ঠানে বিমানবাহিনী প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল মাসিহুজ্জামান সেরনিয়াবাত, বাংলাদেশ সিভিল এভিয়েশন অথরিটির চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল মুহাম্মদ মাফিদুর রহমান এবং ফ্লাইট সেফটি বিভাগের পরিচালক এয়ার কমোডর মোহাম্মাদ মোস্তাফিজুর রহমান বক্তৃতা করেন।

বেসামরিক বিমান পরিবহন এবং পর্যটন প্রতিমন্ত্রী মো. মাহবুব আলী এ সময় মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন। প্রধানমন্ত্রী পরে স্থানীয় এবং আন্তর্জাতিক বিমান সংস্থা ও বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর প্যাভিলিয়ন ঘুরে দেখেন।

শেয়ার করুন:

Share on facebook
Share on twitter
Share on linkedin
Share on pinterest
Share on whatsapp
Share on email
Share on print

আরও পড়ুন:

বিশ্বজুড়ে করোনাভাইরাস

বাংলাদেশে

আক্রান্ত
১৭৮,৪৪৩
সুস্থ
৮৬,৪০৬
মৃত্যু
২,২৭৫

বিশ্বে

আক্রান্ত
২০,৫৪৪,৪২৪
সুস্থ
১৩,৪৬১,৬৮৩
মৃত্যু
৭৪৬,৩৬৬

আর্কাইভ

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০১১১২১৩
১৪১৫১৬১৭১৮১৯২০
২১২২২৩২৪২৫২৬২৭
২৮২৯৩০৩১